পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে গতকাল উদ্ধার হওয়া মানিক হোসেনের (১৯) মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন সমলা (২৪) ও একই এলাকার শাহাবুদ্দিন (৪৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিজের বোনকে ভিডিও ধারণ করে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার প্রতিশোধ নেয়া ও প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এর মধ্যে বোন সমলা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ফরহাদ হোসেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অমরখানা ইউনিয়ন মহারাজা দিঘী থেকে উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার মানিক হোসেন নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের কোমরে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে তার মৃত্যুর জন্য কয়েকজনকে দায়ী করে নাম উল্লেখ করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ।
বোন সমলার বরাতে পুলিশ জানায়, তৃতীয় বিয়ে হলেও বাবার বাড়িতেই থাকতো মানিকের বোন সমলা। গত তিন মাস আগে জোরপূর্বক তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আপন ছোট ভাই মানিক। এসময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিওর ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরো একাধিকবার বোনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে।
এ ঘটনায় বোন তার উপর নির্যাতনের জন্য প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে। গত ১২ জুলাই প্রতিবেশীদের সাথে বোনের ঝগড়া হলে সে ভাই মানিককে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। এক পর্যায়ে সহযোগী হিসেবে সাথে নেয় শাহাবুদ্দিন নামে এক প্রতিবেশীকে।
পরিকল্পনা মতে, ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ভাই মানিককে নিয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মহারাজার দিঘীতে ঘুরতে যায় ওই বোন সমলা। সেখানেও একটি বাড়িতে নিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে মানিক। পরে রাত ৮টায় পাশের একটি হোটেলে পানির সাথে মানিককে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় বোন। রাত ১০টায় মানিক ঘুমের ঘোরে টলতে থাকলে তাকে মহারাজার দিঘীর পাশে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় তার পকেট থেকে মোবাইলটি বের করে পানিতে ফেলে দিয়ে কোমরে চিরকুট রেখে সটকে পড়ে বোন। পরে তার সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়।
