সিলেটের জকিগঞ্জে রাস্তার ইট লুটপাটের অভিযোগে মাহফুজ ইসলাম চৌধুরী নামে যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক করা মাহফুজ ইসলাম ইট চুরি নয় বরং ইট চুরি রোধে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার মঈন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহফুজকে আটকের পর ফেসবুক একটি স্ট্যাটাস দেন ইউপি চেয়ারম্যান। সেই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমরা যখন ইটগুলো হরিলুট হতে দেখে বাধা দিতে গেলে সহিংসতা আশংকায় ওসি স্যার ইউএনও স্যার সহ সর্বোপরি প্রশাসনকে অবগত করি। প্রশাসন গতকাল রাত অভিযান শুরু করলে আমি আমার এলাকার দায়বদ্ধতা থেকে ভোর পর্যন্ত সময় নেই। আমার সকল কাজে মুরুব্বী গন ছাড়াও মাহফুজ আরিফ হাদি সহ অনেকেই ইট লুটপাট থামাতে সাহায্য করেন।’
একই পোস্টে ইউপি চেয়ারম্যান আরও লিখেন, ‘আমি অনুরোধ করবো আপনাদের বিষয়টি এখানেই থামার জন্য আমরা চেষ্টা করছি ভুল বুজাবুজির অবসানে ক্ষমাক্রমে যেন সিদ্ধান্ত না নেন।সবাই একে ওপরের ভাই। এখানে কেউ দুর্নীতি করে নি।’
ফেসবুকে স্ট্যটাস দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার মঈন।
পাঠকের সুবিধার্থে কসকনকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার মঈনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘সম্মানিত ইউনিয়নবাসী। আসসালামু আলাইকুম আপনাদের সালাম আদাব।দেশের নির্বাচন পরবর্তী সরকারী কাজের অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আমার ইউ/পিতে মুন্সিবাজার মাদ্রাসা হইতে হাজিগঞ্জ এলাকার ডাইকের কাজ চলমান।ডাইকের কাজ শুরু করলে দেখা যায় মাঠি কাটা ঠিকাদার ইট নিচে রেখেই ডাইকে মাঠি ভরাটের কাজ চললে আমরা UNO স্যার এবং DC স্যার সহ উর্ধতন সকলকে দরখাস্ত মর্মে অনুলিপি স্বারকক্রমে আবেদন করি।অবগতক্রমে UNO স্যার আমাকে পরামর্শ দেন ইটগুলো তুলে স্থানীয় আশপাশের স্থানরিত করে রাখার জন্য এবং পি আই ও পরিদর্শন পরে আশেপাশের আইডিভুক্ত কাচারাস্তায় প্রতিস্থাপন করা হবে। যেহেতু এই ইট গুলো তুলার বা স্থাপিত করার কোন বাজেট বা নির্দিষ্ট কোন ফান্ড নেই মর্মে আমরা এলাকাবাসীর মুরুব্বি গুনিজনকে নিয়ে মসজিদে বসে কয়েকটি রাস্তা মেরামতের আলোচনা মোতাবেক ইট অপসারণ এর কাজ শুরু করা হয়।’
তিনি আরো লিখেন, ‘রাস্তের পাশে থাকা মসজিদ প্রাঙ্গণে মাদ্রাসা প্রান্তে ইট জমা করতে সহযোগিতা করেন এলাকার যুবক সহ দায়িত্বশীল লোকালয় কিন্ত এর মধ্যে এলাকার অতিউৎসাহী একটি মহল স্থানীয় জনমনে চলমান ইট তুলা কাজকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণ দিয়ে ভ্রিভান্তি করে হরিলুট শুরু করায়।আমরা যখন ইটগুলো হরিলুট হতে দেখে বাধা দিতে গেলে সহিংসতা আশংকায় ওসি স্যার ইউএনও স্যার সহ সর্বোপরি প্রশাসনকে অবগত করি। প্রশাসন গতকাল রাত অভিযান শুরু করলে আমি আমার এলাকার দায়বদ্ধতা থেকে ভোর পর্যন্ত সময় নেই। আমার সকল কাজে মুরুব্বী গন ছাড়াও মাহফুজ আরিফ হাদি সহ অনেকেই ইট লুটপাট থামাতে সাহায্য করেন।আজ ভোর থেকে প্রশাসন তার নিজস্ব পদক্ষেপে এগোচ্ছে এখানে আমার বা কারো কিছু করার নেই। ডাইকের পাশে থাকা স্থানীয় বিজিবিকে জিজ্ঞেস করে উদ্দ্বার অভিযান করছে। আমি অনুরোধ করছি আপনারা যার প্ররোচনায় ইট গুলো নিয়ে থাকেন না কেন যেখানে যে নিয়ে থাকে না কেন ফেরত আপনারা দিন।’
স্ট্যাটাসে নিরীহ কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মইন। লিখেন, ‘আমি অনুরোধ করবো আপনাদের বিষয়টি এখানেই থামার জন্য আমরা চেষ্টা করছি ভুল বুজাবুজির অবসানে ক্ষমাক্রমে যেন সিদ্ধান্ত না নেন।সবাই একে ওপরের ভাই। এখানে কেউ দুর্নীতি করে নি। প্রথমত এক কিলোমিটার রাস্তা করতে দুই লক্ষ তেপান্ন হাজার ইট লাগে এখানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবার ভাইয়ের করা বেশীর ভাগ ও লোকমান ভাইয়ের করা প্রায় ৬লক্ষ ইট।তার মধ্যেই অনেক ইট মাঠির নিচে রয়ে গেছে।’
