ইতিহাসের দেয়াল ভেঙে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তিতে এ ধরনের বিষয় সাধারণ হলেও, স্থায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও গোপন অপারেশনাল সমন্বয়ের বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছবি)

দীর্ঘ কয়েক দশকের দূরত্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শ্রীলঙ্কান অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান এক নিবন্ধে বলেছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্যে স্বীকৃত দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠল।

গত শুক্রবার (৮ মে) ঢাকায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। আর এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদকবিরোধী ও মানবপাচারবিরোধী সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও চুক্তির পরিধি সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার চেয়ে অনেক বিস্তৃত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকেরা।

চুক্তির মূল বিষয় হচ্ছে— দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর আওতায় গোপন তথ্য আদান-প্রদান, তদন্ত কার্যক্রমে সমন্বয় এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যাতে দুই দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা ১৯৭১ সালের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত যোগাযোগ ও নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। এই কাঠামোয় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মাদক পাচার, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।