পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও তালেবান প্রশাসনের শক্তিকেন্দ্র কান্দাহারসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলার পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
কাবুলে অবস্থানরত সংবাদকর্মীরা গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে জঙ্গিবিমানের গর্জন ও একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিমান হামলার খবর নিশ্চিত করলেও দাবি করেছেন, এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে সীমান্তে আফগান বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ৮ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছে বলে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া তোরখাম সীমান্তে একটি শরণার্থী শিবিরে মর্টার শেলের আঘাতে এক নারীসহ অন্তত সাতজন আফগান নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখন আপনাদের আর আমাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ শুরু হলো।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এতে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় একাধিকবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।
সীমান্তের তোরখাম ও অন্যান্য ক্রসিংগুলো গত অক্টোবর থেকেই প্রায় বন্ধ রয়েছে। আজকের হামলার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তালেবান মুখপাত্র দাবি করেন, তারা কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে জীবিত আটক করেছেন। যদিও ইসলামাবাদ এই দাবি অস্বীকার করেছে।
