সিঙ্গাপুরের চিকিৎসারত গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরেই অপারেশন করবার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে সংগঠনটির ফেসবুকের এক পোস্টে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, আপনারা দোয়া করুন আল্লাহ যেনো তাকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ নসীব করেন। আর ওসমান হাদী যদি রবের ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদের কাতারে শামিল হয় সেক্ষেত্রে পুরো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মজলুম জনতাকে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণে শাহবাগে জড়ো হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে৷
পোস্টে আরও বলা হয়, খুনীরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমরা শাহবাগে অবস্থান করবো এবং পুরো বাংলাদেশকে অচল করে দেওয়া হবে। খুনি যদি ভারতে পালিয়ে যায় সেক্ষেত্রে ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করে যেকোনো মূল্যে তাকে গ্রেপ্তারপূর্বক ফেরত আনতে হবে।
আরো পড়ুন: সিটিস্ক্যানে মস্তিষ্কের ‘ইসকেমিয়া’ বেড়েছে, হাদির অবস্থা এখনও সংকটজনক
সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটজনক ও অপরিবর্তিত রয়েছে। সর্বশেষ সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদনে তার মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহজনিত ইসকেমিক পরিবর্তন আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জন এবং তার চিকিৎসায় সরাসরি যুক্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ।
ডা. আব্দুল আহাদ জানান, সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর নতুন করে করা সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, হাদির মস্তিষ্কে ইসকেমিয়া এখনো বিদ্যমান এবং কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নিউরোলজিক্যাল রিফ্লেক্সেও উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি।
তিনি বলেন, “বর্তমানে তার অবস্থাকে ‘ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিক’ বলা যায়। অর্থাৎ অবনতি হয়নি, তবে উন্নতিও হয়নি। আপাতত কোনো ক্লিনিক্যাল ইমপ্রুভমেন্ট নেই। তাই কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টেই চিকিৎসা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
চিকিৎসক জানান, ওসমান হাদির হৃদযন্ত্র সাপোর্টের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে, ফুসফুস ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছে এবং কিডনির ইউরিন আউটপুটও চিকিৎসা সহায়তায় বজায় রাখা হচ্ছে।
মস্তিষ্কে রয়ে যাওয়া গুলির অংশ অপসারণে নতুন করে অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা জানান, গুলির অংশটি মস্তিষ্কের গভীর ও সংবেদনশীল (ডিপ সিলেট) এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যায়ে অপসারণ করলেও ব্রেন ফাংশনে দৃশ্যমান উন্নতির নিশ্চয়তা নেই। বরং অস্ত্রোপচার কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণ বর্তমান শারীরিক অবস্থায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডা. আহাদ জানান, সিঙ্গাপুরের বাইরে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়টি এখনই বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।
চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালেই কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টের আওতায় চিকিৎসা চলবে। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে প্রতিদিন নতুন করে জানানোর মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসমান হাদির শারীরিক উন্নতি নিয়ে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তার অবস্থা আগের মতোই সংকটজনক ও স্থিতিশীল রয়েছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরার এবং ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দুপুরে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগে শরীরকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করতে হবে।
হাদির পরিবার তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া কামনা করেছে। তারা বলেন, “আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়েবাহ নসিব করেন।
