এভাবে হঠাৎ একজনের পক্ষেই সব হিসাব উল্টেপাল্টে গেল!

রোড লেভার অ্যারেনাতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ছেলেদের এককে সেমিফাইনাল ওঠার লড়াইয়ে আজ যা হলো, সেটাকে নাটক বললেও বোধহয় কম হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের চেয়ে ১৫ বছরের ছোট লরেনসো মুসেত্তির সঙ্গে লড়াইয়ে প্রথম দুই সেটে ৪-৬, ৩-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন নোভাক জোকোভিচ।

ক্যারিয়ারের ২৫ তম গ্র্যান্ড স্লামের লক্ষ্যে থাকা সার্বিয়ান তারকার বিদায় তখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু তৃতীয় সেটে গড়ানো ম্যাচে কী অপেক্ষা করছে, সেটা তখন কল্পনারও বাইরে ছিল। দুর্দান্ত দক্ষতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে তৃতীয় সেটে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান জোকোভিচ। এমন সময় শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন ২৩ বছর বয়সী ইতালিয়ান তারকা।

কিছুক্ষণ সময় নিলেন মুসেত্তি। কিন্তু ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস পেলেন না। শেষ পর্যন্ত ডান পায়ের চোটের কারণে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান এটিপি র‍্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম বাছাই মুসেত্তি। তাতে পিছিয়ে থেকেও ১৩তম বারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠে গেলেন জোকোভিচ। সেমিফাইনালে উঠলেও জোকোভিচ বলেছেন, শেষ চারে ওঠা উচিত ছিল মুসেত্তিরই।

এভাবে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম উঠেছে মুসেত্তির। উন্মুক্ত যুগে মুসেত্তি প্রথম খেলোয়াড়, যিনি কোনো গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনাল বা এর পরে দুটি সেটে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

জোকোভিচ বলেছেন, ‘আমি কী বলব, বুঝতে পারছি না। শুধু এতটুকু বলতে পারি, ওর জন্য আমি ভীষণ দুঃখিত। ও নিঃসন্দেহে অনেক ভালো খেলছিল। আমি তো প্রায় বাড়ির পথ ধরেছিলাম। সত্যি বুঝতে পারছি না, কী বলা উচিত।’

জোকোভিচ যোগ করেন, ‘ম্যাচে এ ধরনের ঘটনা অনেক সময়ই ঘটে। আমার সঙ্গেও এমনটা হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে থেকে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি থাকা অবস্থায় এমনটা- এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আর কী-ই বা বলার আছে। আমি শুধু চাই, ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। আজ ওরই জেতা উচিত ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

উল্লেখ্য, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী শুক্রবার কোর্টে নামবেন জোকোভিচ। আজকের আরেক কোয়ার্টারফাইনালে বেন শেলটন ও ইয়ানিক সিনারের মধ্যকার জয়ী তারকার সঙ্গে সেদিন খেলবেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।