বিশ্বকাপের স্বপ্ন ও ক্যারিয়ারের মাইলফলক নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি নিজের জীবনের গল্প, দাদির সঙ্গে গভীর আবেগীয় সম্পর্ক এবং ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তাঁর চলমান লড়াই নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম গ্লোবো টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে শৈশবে দাদির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ভিনিসিয়ুস তাঁকে নিজের জীবনের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি গ্লোবো টিভিকে বলেন, ‘আমার দাদি আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গেই থেকেছি।’
পরিবারের সঙ্গে ছোট একটি বাড়িতে বড় হওয়া এবং শৈশবে দাদির কাছ থেকে পাওয়া অবিরাম সমর্থনের কথা স্মরণ করেন তিনি।
ভিনিসিয়ুস আরও বলেন, ‘দাদি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ, কারণ আমার বাবা সব সময় দূরে থাকতেন। তাই আমার মা ও ভাইবোনদের পাশাপাশি দাদি সব সময় আমাদের আগলে রাখতেন, সব কাজ করতেন। ঘরটি ছিল খুবই ছোট, আমি তাঁর সঙ্গেই ঘুমাতাম। তাঁর কথা বলতে গেলে আমার মুখের ভাষা হারিয়ে যায়। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি আমার জীবনে গভীর দাগ কেটেছেন।’
ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড জোর দিয়ে বলেন, মাঠের অর্জনের চেয়ে মাঠের বাইরের প্রভাব তাঁর কাছে অনেক বেশি অর্থবহ। তিনি বলেন, ‘মাঠের বাইরের এই অর্জনগুলো মাঠের ভেতরের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে আমি আরও অনেক বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারি।’
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার বিষয়ে তাঁর অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ভিনিসিয়ুস।
ফুটবলে জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর ভিনিসিয়ুস। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ারজুড়ে ইউরোপের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে তিনি বারবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনা তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং ফুটবলে বর্ণবাদ মোকাবিলার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্লোবো টিভিকে তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তন যেন অব্যাহত থাকে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মকে বর্ণবাদের শিকার হতে না হয়। আমি মাঠে যেমন দারুণ কিছু করতে চাই, তেমনি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে চাই এবং সেই সব কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের জন্য লড়াই করতে চাই, যাদের আমার মতো কথা বলার সুযোগ নেই।’
ফিফা বিশ্বকাপে নিজের যাত্রা নিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন।
এই বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস এখন পর্যন্ত চারটি গোল করেছেন এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতাম, আর এখন আমি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছি। নিজের দেশ এবং এখানে আসার স্বপ্ন দেখা সেই সব খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। এটা দেখতে সহজ মনে হলেও, এর পেছনে ছিল বছরের পর বছর ধরে চলা লড়াই।’
সোমবার রাতে নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশের ম্যাচে শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে জাপানের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
গ্রুপ ‘সি’ থেকে শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠায় বিশ্বকাপে টানা ১২টি আসরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য রেকর্ড ধরে রাখল সেলেসাওরা। ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই তারা গ্রুপে প্রথম হয়ে মাঠ ছেড়েছে, যার মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে নিজেদের ৪৪ বছরের আধিপত্যের ধারা বজায় রাখল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নেরা।
