ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার বিষয়ে যা বললেন ছাত্রদল নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতা রেদোয়ান ইসলামকে জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে রেদোয়ান নিজে দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে নিয়ে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।

রোববার (৫ এপ্রিল) জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন এবং সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান ও সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

রেদোয়ান ইসলাম ‘রিহিয়া রিহি’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি ট্রান্সজেন্ডার নই। আমি একজন ছেলে এবং একজন সংস্কৃতিকর্মী। দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছি। কিছু কন্টেন্টের কারণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য দুঃখিত। ইতোমধ্যে সেসব কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলেছি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকব।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করতে, কারণ ভুল ধারণা একজন মানুষের সম্মানহানি করতে পারে।”

রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এ বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। রেদোয়ান কিছু ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন, সম্প্রতি সেই কন্টেন্ট সরিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। পরিবারের কেউ এই ভিডিও তৈরিতে সমর্থন করিনি। যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যে রূপান্তর হয়েছে—তা সত্য নয়।”

জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সৈয়দাবাদ সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা পরে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ নেয়। শনিবার কমিটির তালিকা ফেসবুকে প্রকাশের পর রেদোয়ান ইসলামকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে রেদোয়ান ইসলাম তার জীবনবৃত্তান্তে লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু কমিটি প্রকাশের পর জানা যায়, তিনি পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন। তথ্য গোপনের কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”