জানা গেল পোশাক খোলার ভাইরাল ভিডিও’র নেপথ্যের ঘটনা

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারায়ণডহর গ্রামে ধারণ করা একটি ১২ সেকেন্ডের ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে নজরে আসে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নারায়ণডহর এলাকার জামিয়া বদরুল হুদা খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার সামনে স্কেটিং করতে করতে এক যুবক ভ্যানে চলাচলরত এক তরুণীকে উত্যক্ত করেন। একপর্যায়ে তরুণীর সঙ্গে থাকা ব্যাগ দিয়ে আঘাত করা হলে ওই যুবক তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করেন। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারণ করা হয়। ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন উপজেলার নারায়ণডহর গ্রামের মৃত ওয়াসিমের ছেলে রোমান (১৮) এবং স্কেটিং করা যুবক রাকিব (১৮) তারা যমজ ভাই। ভিডিওতে তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উপজেলার নসিবপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে হানিফ (১৩)।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথাকথিত ‘ফানি ভিডিও’ তৈরি করে আসছিলেন। ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই আলোচিত ভিডিওটি নির্মাণ করা হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বুলবুল বলেন, এ ধরনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ভিডিও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। ভিডিও আপলোডকৃত ‘রাকিব ইজ স্কেটিং ব্লগ’ নামের পেজটিও ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিছুর রহমান খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পূর্বধলা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।