জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব

২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নতুন নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্টদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশগ্রহণ করেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

নতুন কমিটিতে আবারও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।

চার নায়েবে আমির

কমিটির চার নায়েবে আমির হলেন– এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।

সাত সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পেয়েছেন– মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ

২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে রয়েছেন– এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি), মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি), অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ (এমপি), অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি), মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) ও ড. মোহাম্মাদ রেজাউল করিম।

নারী প্রতিনিধিত্ব

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে নারী সদস্য রয়েছেন ২১ জন। আর ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় নারী সদস্য ১৭ জন। সাংগঠনিক কাঠামোয় নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকে দলটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন

৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে মাওলানা এটিএম মাছুমকে। কমিশনার হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।

১৪ অঞ্চলে পুনর্বিন্যাস

সারাদেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর-দিনাজপুরে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণে আবদুর রব, ফরিদপুরে ড. হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালীতে মাওলানা এটিএম মাছুম এবং চট্টগ্রামে মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে রুকনদের গোপন ভোটের ভিত্তিতে গত বছরের ১ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানকে তৃতীয়বারের মত আমির নির্বাচিত করা হয়। পরে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। সে সময় মজলিসে শূরার মতামত নিয়ে শুধু এটিএম আজহারকে নায়েবে আমির নির্বাচিত ও শপথ পড়ানো হয়। বাকি পদগুলো জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো নতুন করে নির্বাচন ও গঠন করা হলো।