ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে এক বিজেপি নেতাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) গভীর রাতে সোনহাট থানার অন্তর্গত নওগাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, বালু খনি পরিচালনা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য বিজেপি নেতা ভরত সিং ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে দুর্বৃত্তদের ফাঁদে পড়েন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভরত সিংকে বহনকারী ফরচুনার এসইউভিকে ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আগুন নিভে যাওয়ার পর গাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভরত সিং ওরফে ‘লল্লা সিং’।
এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মান্নু ত্রিপাঠী। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে। হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগে নয় আসামির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার বালু খনির ইজারা ভরত সিংয়ের পরিবারের কাছে ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এরপর থেকেই সোনহাট, কৈলাশপুর, তেলিমুডা, বেলিয়া ও ছিংগুরা এলাকায় বালু পরিবহন এবং খনি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কথিত অবৈধ অর্থ আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভরত সিংয়ের গোষ্ঠী এবং বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে কয়েক মাস ধরে এই বিরোধ চলছিল।
ত্রিপাঠী পরিবারের মালিকানাধীন টিপার ট্রাকগুলো বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো বলে জানা গেছে। খনি থেকে উত্তোলিত বালুর অর্থপ্রদান ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও গভীর হয়। শুরুতে এটি ছিল খনি-সংক্রান্ত বিরোধ, কিন্তু ধীরে ধীরে তা প্রভাব বিস্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং স্থানীয় আধিপত্যের লড়াইয়ে পরিণত হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ভরত সিং ও তার সহযোগীরা যে ফরচুনার গাড়িতে যাচ্ছিলেন, সেটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসইউভিটির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গাড়ির ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান ভরত সিং।
এই হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন বীরেন্দ্র সিং এবং নাগেন্দ্র সিং। পরেরজন পেশায় শিক্ষক ও ভরত সিংয়ের চাচাতো ভাই ছিলেন।
