ড্রোন হামলায় ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ডুবে গেছে

ভারত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জানিয়েছে যে, সন্দেহভাজন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় পতাকাবাহী একটি কাঠের পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে ডুবে যাওয়া এটি দ্বিতীয় জাহাজ। এই যুদ্ধের ফলে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে এবং ২০,০০০ নাবিক হরমুজ প্রণালী, যা ওমান উপসাগরে গিয়ে মিশেছে, তা ছাড়তে পারছেন না।

ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার ভোররাতে সোমালিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাওয়ার পথে কাঠের তৈরি নৌকাটিতে হামলা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এর ফলে নৌকাটিতে আগুন লেগে যায় এবং অবশেষে তা ডুবে যায়।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নৌকার ১৪ জন নাবিককেই ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী উদ্ধার করে দিবা বন্দরে নিয়ে গেছে।

এদিকে, ভারত হামলার প্রকৃতি বা এর পেছনে কারা ছিল তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি, কিন্তু ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড বলেছে, এতে একটি সন্দেহজনক বিস্ফোরণ ঘটেছে যা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, জাহাজটি গবাদি পশু বহন করছিল।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো পৃথকভাবে মূল্যায়ন করেছে যে, এটি সম্ভবত একটি ড্রোন হামলা ছিল।

অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বুধবার ওমানের উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।’

ভারতীয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জাহাজটির নাম হাজী আলী বলে জানিয়েছেন। মেরিনট্র্যাফিক প্ল্যাটফর্মের জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ১১ মে জাহাজটি সর্বশেষ মাস্কাট উপকূলের কাছে তার অবস্থান জানিয়েছিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এর পরিচালকদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী আরও অন্তত দুটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স