দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শরীরে বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যা

সম্পর্কের টানাপোড়েনের অবসান আর ২০ লাখ রুপির জীবন বীমা হাতিয়ে নিতে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য বিষধর সাপের কামড়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই নারী ও তার প্রেমিক। ভারতের উত্তর প্রদেশের মীরাটে রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম অতুল প্যানওয়ার। তিনি তার স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মীরাটের হস্তিনাপুরে কৃষ্ণ কিডস প্লে স্কুল নামে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। হস্তিনাপুরের নিজ বাড়ি থেকেই অতুলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে অতুল ও দামিনীর বিয়ে হয়েছিল।

• পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

মীরাটের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার অভিজিৎ কুমার বলেন, দামিনী তাদের স্কুলের গাড়িচালক তুষার ওরফে নিক্কির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আসামিরা প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে অতুলকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা নতুন এই নৃশংস ছক আঁকেন। এই হত্যাকাণ্ডে দামিনী তার প্রেমিক তুষার এবং আরও দুজনের সহযোগিতা নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ঘটনার রাতে স্বামীর দুধের গ্লাসে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন দামিনী। অতুল অচেতন হয়ে পড়লে বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সাপটি তাকে কামড় দেয়। শুক্রবার সকালে অতুলকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

• হত্যার মূল উদ্দেশ্য

পুলিশ বলছে, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে দুটি মূল উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, অতুলের নামে থাকা ২০ লাখ রুপির জীবন বীমার টাকা আত্মসাৎ করা এবং দ্বিতীয়ত, অতুলকে জীবন থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের পরকীয়া সম্পর্ক নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া। সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে কেউ সন্দেহ করবে না; এমন ধারণা থেকেই এই চতুর পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন তারা।

• রহস্য উন্মোচন যেভাবে

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সাধারণ সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন। পুলিশ বলেছে,  সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (সিডিআর) এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর দামিনী ও তুষারের এই নৃশংস ষড়যন্ত্রের বিষয়টি পুরোপুরি প্রকাশ পায়।

ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত চলছে।

মীরাট পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছেন, অভিযুক্ত তুষারও বিবাহিত এবং এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে নিজের স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি।