২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় আবারও চোটে পড়েছেন নেইমার জুনিয়র। সান্তোসের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ডের ডান পায়ে কাফ মাসলের (পেশি) সমস্যা ধরা পড়েছে। ফলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল) খেলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত রোববার ঘরের মাঠে কুরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়েন নেইমার। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কাফের সমস্যার কারণে তুলে নেওয়া হয় তাঁকে। তবে নেইমার বিষয়টি বুঝতে না পেরে আবারও মাঠে ঢুকে পড়েন। বদলি খেলোয়াড়ের বোর্ড নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে দাবি করে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তাঁকে।
ব্রাজিলের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় নেইমারের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তোসের মেডিকেল বিভাগের প্রধান রদ্রিগো জোগাইব।
চোটের কারণে ইতিমধ্যেই সান্তোসের কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচ মিস করেছেন নেইমার। এছাড়া গ্রেমিওর বিপক্ষে লিগের আগামী ম্যাচেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই। আগামী ২৭ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেই নিজেকে ফিট করার এক কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন এই তারকা। সান্তোস এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) উভয়েই তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর গভীর নজর রাখছে।
২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পাওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। চোট আর ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতির কারণে তাঁকে বিবেচনায় রাখেননি কোচ। তবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার অসম লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারও গুঞ্জন কবর দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে নেইমারের।
সান্তোসের মেডিকেল প্রধান জোগাইব অবশ্য এই চোটকে খুব একটা গুরুতর মনে করছেন না। আগামী সপ্তাহে নেইমার ব্রাজিলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন বলে আশা তাঁর।
জোগাইব বলেন,
‘নেইমারের কাফ মাসলে সামান্য চোট (ইডিমা) রয়েছে। তবে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর যেভাবে উন্নতি হচ্ছে তাতে আগামী সপ্তাহে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেই সে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবে।’
নেইমারের এই নতুন চোটের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইএসপিএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিয়ান এই কোচ শুরু থেকেই কড়া অবস্থানে ছিলেন। কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই দলে চেয়েছিলেন তিনি। কোচিং স্টাফদের ভেতরের মূল চিন্তা হলো, এই চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর দিকের অনুশীলন সেশনগুলো নেইমার মিস করবেন কি না। এমনকি আগামী ৩১ মে মারাকানায় পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়েও সংশয় রয়েছে। চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফিরতে সান্তোসের ‘রেই পেলে ট্রেইনিং সেন্টারে’ নিজের ব্যক্তিগত মেডিকেল টিমের সাথেও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন নেইমার।
