ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে এক প্লে স্কুলের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর স্পর্শকাতর অঙ্গে গরম ছুরির ছ্যাঁকা দেওয়ার এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জুলাই লালপুর-পাণ্ডেপুর থানা এলাকার আকাথা এলাকায় অবস্থিত ‘সেরিন সোনি প্লে স্কুলে’ এই ঘটনা ঘটে।
নির্যাতিত শিশুটি স্থানীয় এক আইনজীবীর ছেলে। শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় শিশুটি শিক্ষিকার কাছে বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শিক্ষিকা অনুমতি না দেওয়ায় শিশুটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে প্যান্টেই প্রস্রাব করে ফেলে। এতেই মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রীতি কুশওয়াহা নামের ওই শিক্ষিকা।
শিশুর বাবার দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা বালকটিকে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি রুমে নিয়ে যান। সেখানে তিনি গ্যাস বার্নার জ্বালিয়ে একটি ছুরি লাল করে গরম করেন এবং শিশুটির স্পর্শকাতর অঙ্গে ছ্যাঁকা দেন। কেবল তা-ই নয়, শিশুটিকে শারীরিক প্রহার করা হয় এবং এই ঘটনা কাউকে জানালে চরম পরিণতি হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
আতঙ্কিত শিশুটি দুপুর ১টা নাগাদ বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি করতে করতে মা-বাবাকে নিজের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানায়। শিশুটির বাবা-মা সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত শ্রেণিশিক্ষিকাকে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তারা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হেমলতা সিংয়ের সঙ্গে কথা বললে, তিনি সাহায্য করার বদলে উল্টো পরিবারটিকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরদিন শিশুটির বাবা নিজে স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষিকা ও স্কুল ম্যানেজার কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।
স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের পর শিশুটির বাবা পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষিকা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা অতুল সিং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বাবা কর্তৃক জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। শীঘ্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছেলের এমন করুণ অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা। তিনি বলেন, “দুপুর ১টার দিকে ছেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে, তার স্পর্শকাতর অঙ্গ পোড়া ছিল। ওই শিক্ষিকা ফোনও ধরেননি।”
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ডিডিইউ জেলা হাসপাতালের প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টে কোনো সরাসরি ‘পোড়া জখমের’ উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশ ঘটনাটির সকল দিক খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
