ফোন রিসিভ করে জানা যায়, মোবাইলের মালিক বেঁচে নেই
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কলেজছাত্রী সুমাইয়া জান্নাত (২০)। এই মর্মান্তিক ঘটনার আগে তার বাবা আরিফুর রহমান ফোনে মেয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারলেন মোবাইলের আগের মালিক আর বেঁচে নেই।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, সুমাইয়া জান্নাত চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজের হোস্টেলে সিট বরাদ্দ পাওয়ার জন্য গতকাল সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করার উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হয়েছিলেন এবং প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
একই সময়ে তার বাবা আরিফুর রহমান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে মেয়ের কলেজের প্রতি যাত্রা শুরু করেছিলেন। মেয়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে তিনি সুমাইয়ার মোবাইল নম্বরে কল করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করেন এক অচেনা তরুণ, যিনি জানিয়ে দেন মোবাইলের মালিক আর জীবিত নেই। এই খবর শুনে বাবা আরিফুর রহমান ভেঙে পড়েন।
এরপর বাবার কান্নার আওয়াজ লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় শোনা যায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে আরিফুর রহমান জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হয়েছিল। মেয়ের এমন মৃত্যু তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্র ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বাজার এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে দুটি বাসের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। সুমাইয়া জান্নাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, কলেজের হোস্টেল সিট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত নোটিশ অনুযায়ী অভিভাবকদের উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই কারণেই আরিফুর রহমান রাঙ্গুনিয়া থেকে এবং সুমাইয়া নানাবাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ঘটনার সময় হাসপাতালে মেয়ের মরদেহের পাশে তার মা ইয়াছমিন আক্তারকে আহাজারি করতে দেখা যায়। তিনি জানালেন, সেদিন সকালে মেয়েকে একটু দেরিতে বের হতে বলেছিলেন, কিন্তু সুমাইয়া তাড়াহুড়ো করে চলে যায়। তাঁর আক্ষেপ, পাঁচ মিনিট দেরি করলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি বাস জব্দ করেছে। চালকরা ইতি মধ্যে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এই দুর্ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এক মুহূর্তেই থেমে যাওয়ার ফলে স্বজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
