কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যার পানির স্রোতে নৌকাডুবিতে পানিতে ভেসে গিয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় জেরিন আক্তার (৮) নামে আরেক শিশুকে তাৎক্ষণিক মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ হারানো হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা ওই এলাকার আবদুল জলিলের মেয়ে।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, অবিরাম টানা বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের অথৈয় পানিতে তলিয়ে যায় বসতবাড়ি। এ অবস্থায় তিন মেয়েকে নিরাপদে রাখতে নৌকা করে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন আবদুল জলিল। এরই মধ্যে নৌকাটি কিছুদূর গিয়ে ডুবে যায় পানির স্রোতে। এতে মুহূর্তে ভেসে যায় তার দুই মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১২) ও জেরিন আক্তার (৮)। তবে ওইসময় ছোট মেয়ে সাওরিনকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছিলেন বাবা আবদুল জলিল।
তিনি বলেন, নৌকাডুবে দুই শিশু মেয়ে ঝর্ণা ও জেরিন পানিতে ভেসে যাবার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে শিশু জেরিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় স্থানীয় এলাকাবাসী। কিন্তু ঝর্ণাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানানো হয় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসারকে।
এরপর ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের নির্দেশে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা চার ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার তল্লাশি চালিয়ে শনিবার দুপুর দুইটার দিকে পানিতে নীচের দিকে ভেসে যাওয়া অবস্থা থেকে নিখোঁজ ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশু মারা গেছে। তার নাম হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা। এ ঘটনায় অসুস্থ তার ছোট দুই বোনকে উদ্ধারের পর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে দুই শিশু সুস্থতা অনুভব করলে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
