ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মোবাইল চুরি অভিযোগে বিএনপি নেতার কার্যালয়ে নাতিকে পেটানো হচ্ছিল। বাধা দিতে গেলে দাদাকে সড়কে ফেলে মারধর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান দাদা।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট–সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবী হোসেন (৭০) হাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য ও স্থানীয় উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মছুল ইসলাম ওরফে ফারুকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছর তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তা প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, মাসখানেক আগে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রবিন মিয়ার একটি মুঠোফোন চুরি হয়। সেই চুরির অভিযোগ আনা হয় গতকালের ঘটনায় নিহত নবী হোসেনের নাতি মো. রানার (২০) বিরুদ্ধে। তিনদিন আগে এলাকায় ফেরেন রানা। গতকাল সন্ধ্যার পর তাকে ধরে হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট এলাকায় বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে বাঁধা হয়।
পরে শামছুলের নেতৃত্বে সালিশ বসিয়ে রানাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে রানার দাদা নবী হোসেন সেখানে গিয়ে নাতিকে মারধর করতে নিষেধ করলে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। নবী হোসেন সড়কে পড়ে গেলে তাঁর বুকে কিল-ঘুসি মারা হয়। স্বজনেরা রাত ১০টার দিকে তাঁকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জড়িতদের ধরতে এলাকায় অভিযানে চালান। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘অভিযুক্ত রানাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন এবং অভিযুক্ত রানার দাদা মোহাম্মদ নবী হোসেনকে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবগত ছিলাম না।’
শামছুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ঘটনার দিন কিংবা তার আগে বা পরে কোনো দিনই আমার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী অফিসে কোনো প্রকার বিচার-সালিশ হয়নি এবং আমি কোনো বিচার-সালিশ করিনি।’
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর চেম্বারের সামনে নিয়ে মো. রানাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর দাদা গিয়ে বলেন, ‘এভাবে আস্তে আস্তে না মাইরা, একবারে মাইরা ফালাও।’ এ কথা বলতেই তাঁরা বৃদ্ধের ওপর চড়াও হন। পরে কিল-ঘুষিতে আহত হলে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
ওসি বলেন, ‘ঘটনার পর চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ জড়িত অন্যদের ধরতে আমরা অভিযানে যাই, কিন্তু সবাই পালিয়েছে।
