বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন কি না- এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে।
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে বিদেশ থেকে এনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে আশিক চৌধুরী বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আশিক চৌধুরীর নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে, যা অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যরা আজ শপথ নিয়েছেন। এরই মধ্যে বহুল আলোচিত এই ব্যক্তিকে ঘিরে নানান গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন তিনি বিদেশে ফিরে যাবেন, আবার কেউ দাবি করছেন নতুন সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাকে পাশে চাইছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আশিক চৌধুরীর অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আলোচনায় সমঝোতা হলে তাকে নতুন মন্ত্রিসভায় কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান শেষে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় আশিক চৌধুরীর। এ সময় তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার কথা স্বীকার করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন দায়িত্ব নিয়ে দেশেই থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর, উপনেতা তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ
আশিক চৌধুরী বলেন, নতুন সরকারের হাতে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার জন্যই এত পরিশ্রম করেছি। আজ আমরা খুবই খুশি যে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পেরেছি। এখন বাংলাদেশ একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার পরিকল্পনা- প্রধানমন্ত্রীকে একটু সময় দেওয়া। তার সঙ্গে বসবো। হয়তো আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই বৈঠক হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হলো- এমন প্রশ্নে বিডার চেয়ারম্যান বলেন, কিছু আলোচনা হয়েছে। এখন যেহেতু তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন, ফরমাল বৈঠকের পরই হয়তো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।
যদি নতুন কোনো দায়িত্ব পান তাহলে তার কী কী শর্ত থাকতে পারে- এমন প্রশ্নে আশিক চৌধুরী বলেন, সবকিছুই টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করবে। দেশের সেবা করার ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নেই।
শর্তগুলো অর্থনৈতিক বিষয়ে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একেবারেই নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সততার সঙ্গে কাজ করার যে সুযোগ পেয়েছি, একই পরিবেশ পেলে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।
