নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গাভা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রভাষক মোঃ আজহারুল ইসলাম। তাঁর পিতা মোঃ জামাল উদ্দিন এবং মাতা সালেহা খাতুন। চার সন্তানের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী, অধ্যবসায়ী ও সুশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং কঠোর পরিশ্রমের অনুপ্রেরণায় তিনি নিজেকে একজন আদর্শ শিক্ষাবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
শিক্ষাজীবনের সূচনা নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে তিনি তাঁর অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে শরাফপুর মশিউরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর সাতক্ষীরা জেলার ঐতিহ্যবাহী গুনাকরকাটি খায়রিয়া আজিজিয়া কামিল মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করে তাফসির বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায়ও তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার এক অনন্য সমন্বয় ঘটান। এই বহুমাত্রিক শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁকে একজন দক্ষ শিক্ষক, বিচক্ষণ শিক্ষাবিদ এবং আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমানে তিনি যশোর জেলার ঐতিহ্যবাহী কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় তাফসির বিভাগের প্রভাষক হিসেবে সুনাম, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কাছে শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং একটি মহান আমানত। শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর শিক্ষাদর্শের মূল লক্ষ্য।
প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকায় দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে সাকসেস একাডেমি পরিচালনা করে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনে সফলতা অর্জন করেছে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর এই নিরলস অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত।
ব্যক্তিজীবনে মোঃ আজহারুল ইসলাম একজন সৎ, বিনয়ী, পরোপকারী ও নীতিবান মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিক্ষিত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। সেই আদর্শকে ধারণ করে তিনি দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে আজীবন কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
