শিবির নেতা জিসানের প্রতিবেদন জমা দিল মেডিকেল বোর্ড, কি আছে তাতে?

শিবির নেতা জিসানের প্রতিবেদন জমা দিল মেডিকেল বোর্ড
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত সদ্য বহিষ্কৃত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত মেডিকেল বোর্ড।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সেই প্রতিবেদন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

নাম গোপন রাখার শর্তে মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে সেটি বলেননি তিনি। শুধু জিসানের শারীরিক অবস্থা খারাপ নয়, তাকে ছাড়পত্র দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহানকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে, কুমিল্লার বাইরে আছেন বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিরত জিসান মিয়া প্রধানের কেবিনে যান গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চার সদস্য। এসময় তারা জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র ও তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। পরে সেসব কাগজপত্র নিয়ে তারা দীর্ঘসময় বৈঠক করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দেন।

গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. হেলালুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না, হাসপাতালের পরিচালক এ বিষয়ে জানাবেন বলে জানান তিনি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন হাতে পাইনি। হাতে পেলে সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত যে আদেশ দিবেন সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে নিখোঁজ হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি নিখোঁজ হন বলে ডায়েরি করা হয়। শুক্রবার (১৩ জুন) রাত ৮-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুজন মোবাইলে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত রোববার (১৪ জুন) জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে চার সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।