ফুটবল ইতিহাসে এমন কাকতালীয় ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। ২০০৭ সালে একটি দাতব্য ফটোশুটে পাঁচ মাসের এক শিশুকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই এখন স্পেনের তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুই ফুটবলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০০৭ সালের সেই ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। অনেক সমর্থক মজা করছেন বিষয়টা নিয়ে। মার্কিন কৌতুক অভিনেতা ট্রেভর নোয়াও ছবিটি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। যে শিশুটিকে মেসি কোলে নিয়েছিলেন, সে-ই আজ বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০০৭ সালের সেই ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল খেলবে রাতে অন্যদিকে স্পে ফাইনালে উঠেছে। তাই যদি আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে জিতে যায় তাহলে ফাইনালে মেসি ও ইয়ামালের দেখা হতে পারে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৭ জুলাই মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করলেও পরে গোল করে ইতিহাস গড়েন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন।
অন্যদিকে, মাত্র ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম একাদশে নামার ম্যাচে ২১ জুন সৌদি আরবের বিপক্ষে মাত্র ১০ মিনিটেই গোল করেন তিনি। এরপর ১০ জুলাই বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যায়।
যদি আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে জিতে যায় তাহলে ফাইনালে মেসি ও ইয়ামালের দেখা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
এবার বলা যাক সেই ছবি প্রসঙ্গে, যে গল্পটা দারুণ। সময়টা ছিল ২০০৭ সাল, সেসময় ইউনিসেফ এবং বার্সেলোনাভিত্তিক ক্রীড়া পত্রিকা দিয়ারিও স্পোর্ত–এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটের আয়োজন করা হয়। স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকার পরিবারগুলোর জন্য লটারির ব্যবস্থা ছিল। বিজয়ীদের একজন ছিলেন ইয়ামালের পরিবার। পুরস্কার হিসেবে ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে একজন বার্সেলোনা খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান তারা।
ছবিগুলো তুলেছিলেন আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত। তিনি পরে জানান, তখন কেউই কল্পনা করতে পারেননি যে ওই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠবে। মনফোর্তের ভাষায়, ২০০৭ সালে মেসি তখনও বার্সেলোনায় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতে। কেউ জানত না, ভবিষ্যতে দুজনই ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবে। ভাগ্য কখনো কখনো অবিশ্বাস্য গল্প লিখে।
