সেই শিবির নেতাকে বহিষ্কার

প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় হেফাজতে থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

প্রচার সম্পাদক তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জিসানের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে সংগঠন থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

তবে নিখোঁজ ও মামলার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি দল কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের জিসানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। সে এখনো পুলিশের জিম্মায় থাকায় নিখোঁজ সংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানার সুযোগ পায়নি সংগঠনটি। ফলে এই নিখোঁজ বা অপহরণের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো সোর্স তাদের কাছে নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক তাদের বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে যায় এবং সে সময় পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর বাবাকে পুলিশের জিম্মায় আইসোলেটেড (বিচ্ছিন্ন) অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে পরিবারের কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না। ভুক্তভোগীর বোন জিসান ও তাঁর বোনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকে জানলেও, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়া, থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

এর আগে বিয়ের আগের দিন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন এক বিধবা নারী। জিসান আহম্মেদ প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।