আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মাঠের খেলা শেষ করে আসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন তরুণ আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লাউতারো ফাজিওলি।
গত ১ জুন নিজের বাড়িতে হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান ফাজিওলি। অবাক করার বিষয় হলো, এর মাত্র এক দিন আগেই (রবিবার) তিনি সান্তা ফে কাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের ক্লাব কোলোন দে সান জাস্তোর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। জ্ঞান হারানোর পর তাঁকে দ্রুত সান্তা ফের হোসে মারিয়া কালেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ ফুটবলার। মাত্র এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন তিনি।
লাউতারোর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার ক্লাব কোলোন দে সান জাস্তো। এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, ‘আমাদের ক্লাবের প্রথম বিভাগের ফুটবলার লাউতারো ফাজিওলির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’
প্রিয় খেলোয়াড়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেবল শোকবার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তারা সপ্তাহজুড়ে ক্লাবের সব ধরনের ক্রীড়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। এর ফলে সান্তা ফে কাপের তৃতীয় রাউন্ডে দলটির পূর্বনির্ধারিত ম্যাচটিও স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘তার স্মরণে ও সম্মানে ক্লাবের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
ফাজিওলির এই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়াটা সবার কাছেই ছিল এক বিরাট ধাক্কা। কারণ মৃত্যুর আগের দিন সেন্ট্রাল সান কার্লোসের বিপক্ষে যে ম্যাচটি তিনি খেলেছিলেন, সেখানে তার শরীরে অসুস্থতার বিন্দুমাত্র কোনো লক্ষণ ছিল না।
ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হোসে লুইস রেপেতো এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সোমবার সকালে সে প্রথম কিছুটা অসুস্থ বোধ করে। অথচ রবিবারের ম্যাচে ওর মধ্যে ক্লান্তির কোনো ছাপই ছিল না। উল্টো পরের রাউন্ডে কোয়ালিফাই করার পর পুরো স্কোয়াড আর কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সে ভীষণ আনন্দ করেছিল, মেতেছিল জয়ের উদযাপনে।’
তরুণ এই ফুটবলারের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সান্তা ফে ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষও। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘আমাদের ফুটবল অঙ্গনের প্রতিভাবান খেলোয়াড় লাউতারোর জন্য গভীর শোক, যে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তার বন্ধু-বান্ধব এবং কোলোন দে সান জাস্তো ক্লাব পরিবারের প্রতি আমরা আমাদের আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি।’
যে ফুটবলার মাত্র কয়েক দিন আগেও সতীর্থদের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে মাঠের জয় উদযাপন করেছিলেন, তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবল অঙ্গন। ২২ বছর বয়সেই থেমে গেল এক সম্ভাবনাময় ফুটবলারের জীবনযাত্রা।
