ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হিসেবে বিবেচিত হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সঙ্গে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ বলেন—
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
উচ্চারণ: ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার
অর্থ: অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সূরা কাওসার: ২)
এ ছাড়া হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের কাছেও না আসে।
কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন, মুকিম মুসলমান—পুরুষ ও নারী উভয়ের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, যদি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে।
নিসাব হলো সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ।
স্বামী-স্ত্রী দুজনই সামর্থ্যবান হলে কী হবে?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই যদি আলাদাভাবে সামর্থ্যবান হন, তাহলে—
স্বামীর ওপর আলাদা কোরবানি ওয়াজিব
স্ত্রীর ওপরও আলাদা কোরবানি ওয়াজিব
স্বামীর কোরবানি স্ত্রীর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না।
ইসলামে একাধিক বিয়ে কখন জায়েজ, কখন নয়
পশু ভাগে কোরবানি করার নিয়ম
অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাইলে একটি গরুর দুই অংশে কোরবানি দিতে পারেন, অথবা দুইটি ছাগল/ভেড়া আলাদাভাবে দিতে হবে।
একটি গরুতে একাধিক সদস্যের অংশগ্রহণ
একটি গরুতে পরিবারের সর্বোচ্চ সাতজন সামর্থ্যবান সদস্য অংশ নিতে পারেন। এতে সবার কোরবানি আদায় হয়ে যায়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোরবানি শুধুমাত্র পরিবারের প্রধানের ওপর নয়, বরং প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর আলাদা দায়িত্ব। তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনই সামর্থ্যবান হলে উভয়ের জন্য পৃথক কোরবানি করাই বাধ্যতামূলক।
