স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিককে বিয়ে

মাদারীপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক নারী। প্রথম সংসার ভেঙে প্রেমিকের হাত ধরে বিয়ে করলেও দুই বছর ধরে স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়ায় তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যে সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রানী আক্তার এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যচক গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের মধ্যে দীর্ঘ ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে পারিবারিকভাবে রানীকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়া হয়। রানীর অভিযোগ, তার শ্বশুরবাড়িতে কুৎসা রটিয়ে তার প্রথম সংসারটি ভেঙে দেন স্বপন খান।

পরে ২০২৪ সালের ২০ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার একটি কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বপন তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে টালবাহানা শুরু করেন।

বহু চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে অবশেষে শনিবার দুপুর থেকে বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্বপনের বাড়িতে অনশনে বসেন রানী আক্তার। এ সময় স্বপনের পরিবার বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রানীর অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বপন খান পলাতক রয়েছেন। পেশায় তিনি একজন মিনি ট্রাকচালক।

৬ মাস পর সুন্দরবনে ফিরল সেই বাঘিনী, অবমুক্ত করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

অনশনরত রানী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৩ সালে আমার আগের স্বামীর কাছে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলে স্বপন আমার সংসারটি ভেঙে দেয়। পরে ২০২৪ সালে আমরা গোপনে বিয়ে করি। এরপর স্বপনের বড় ভাই লিবিয়ায় ধরা পড়লে আমাদের বাড়িতে এসে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় স্বপন ও তার মা। এখন তার পরিবার তাকে গোপনে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো প্রেমিকা নই, বিবাহিত স্ত্রী। আমি আমার অধিকার চাই। স্থানীয় মেম্বারের কাছে গিয়েও কোনো বিচার পাইনি। এবার সঠিক বিচার না পেলে এই বাড়িতেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।’

এদিকে স্বপন খানের মা ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওদের মধ্যে ৫ বছরের সম্পর্ক ছিল তা আমরা জানতাম না। এখন ছেলের জন্য অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করার পর এই মেয়ে এসে দাবি করছে। গোপনে বিয়ে করে থাকলে আমার ছেলে ওই মেয়েকে নিয়ে যেখানে খুশি থাকুক। এই মেয়ে এ বাড়িতে কেন আসবে? এটা স্বপনের বাড়ি না।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।