ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং তাণ্ডবে রানের পাহাড় গড়ল জিম্বাবুয়ের স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৮২২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলটি। যদিও ম্যাচটি লিস্ট ‘এ’ মর্যাদার নয়, তবু এমন রানের পরিসংখ্যান নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্ময় ও চাঞ্চল্য।
জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ওই ম্যাচে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব মুখোমুখি হয় মিথেন লায়ন্সের। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন স্করপিয়ন্সের ওপেনাররা। পাওয়ার হিটিং আর ধারাবাহিক রান তোলার মাধ্যমে তারা গড়ে তোলেন বড় সংগ্রহের ভিত।
দলের হয়ে সবচেয়ে বড় ইনিংসটি খেলেন তাকুন্ডা মাদেম্বো। ১৪৩ বলে তিনি করেন ৩০২ রান, ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫০টি চার ও ৭টি ছক্কায়। অপর ওপেনার উইনফেড মাতেন্ডেও ছিলেন সমান বিধ্বংসী। মাত্র ৭৫ বলে তিনি করেন ২০৩ রান, যেখানে ছিল ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কা। ওপেনিং জুটিতেই বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয় স্করপিয়ন্স।
মিডল অর্ডারেও থেমে থাকেনি রান তোলার গতি। তিন নম্বরে নেমে ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। পরে গ্যাব্রিয়েল জায়া ৪৯ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন আরও বড় আকারে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮২২ রানে থামে স্করপিয়ন্সের ইনিংস।
৮২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মিথেন লায়ন্স। স্করপিয়ন্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।
ফলে ম্যাচটি শেষ হয় ৭৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে, যা ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে এই ম্যাচ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জিম্বাবুয়ের ওই প্রতিযোগিতাটি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের স্বীকৃত কাঠামোর বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে এর সরাসরি তুলনা করা যাচ্ছে না। তবুও এক ম্যাচে ৮২২ রানের ইনিংস ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
স্কোরকার্ড অনুযায়ী, ম্যাচে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুতে সহজেই রান তুলেছেন ব্যাটাররা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে একই পিচে ব্যাট করা কঠিন হয়ে পড়ে মিথেন লায়ন্সের জন্য।
ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৮০০ রানের বেশি দলীয় সংগ্রহ বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাবের এই ইনিংস এখন ঘরোয়া ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
