যে কারণে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত

লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হালিম খান ২১টি যৌন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, যার মধ্যে ৯টি ধর্ষণের অভিযোগ ছিল।

লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
আব্দুল হামিদ খান

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একাধিক তরুণী এবং কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

টাওয়ার হ্যামলেটসের ওল্ড ফোর্ড রোডের বাসিন্দা আব্দুল হালিম খান নামে ওই ইমামকে বৃহস্পতিবার স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে হাজির করে লন্ডন নগর পুলিশ। পরে আদালত তাকে যাবজ্জীবন অর্থাৎ ন্যূনতম ২০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হালিম খান সাতজন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে ২১টি যৌন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, যার মধ্যে ৯টি ধর্ষণের অভিযোগ ছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে ইমাম হিসেবে নিজের পদের অপব্যবহার করে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার ভান ধরে হালিম খান বিভিন্ন নারী ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতন করতেন।

তদন্তের নেতৃত্বে থাকা লন্ডন নগর পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, “আব্দুল হালিম খান নিজেকে একজন শ্রদ্ধেয় ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। অথচ এটি ছিল সত্য থেকে অনেক দূরে। তিনি নারীদের ওপর শিকারের মত ঝাঁপিয়ে পড়তেন ও তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতেন।

“আমি ভুক্তভোগীদের ওপর আলোকপাত করতে চাই, যারা হালিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে অসাধারণ সাহসিকতা দেখিয়েছেন এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় অদম্য মনোবল প্রদর্শন করেছেন। আশা করি, এই রায় তাদের জীবন পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেবে। একইসঙ্গে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া প্রত্যেককে মনে করিয়ে দেবে যে, চাইলে আইনের সহায়াতা পাওয়া সম্ভব।

“আমরা নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলা করতে, বিপজ্জনক অপরাধীদের চিহ্নিত করে লন্ডন থেকে তাদের সরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এদিকে হালিম খানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার পর তার নির্যাতনের শিকার হওয়া একজন ভুক্তভোগী নগর পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ওই নারী বলেন, “নির্যাতন ও মানসিক আঘাতের কথা বলতে সামনে আসার এই কঠিন পদক্ষেপটি ছিল বেদনাদায়ক এবং আমার জীবনের অন্যতম কঠিন কাজ। দীর্ঘ আট বছর পর স্বস্তি পেয়েছি এবং ন্যায়বিচার হয়েছে। কিন্তু এই রায়ের পরও মানসিক আঘাতটা দূর হয়ে যায়নি।

“আশা করি, আমার সামনে আসাটা অন্য ভুক্তভোগীদের এটা জানতে উৎসাহিত করবে যে তারা একা নয়।”

পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম তারা হালিম খানের অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারে। সে সময় সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগী তার স্কুলের একজন শিক্ষকের কাছে হালিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

অভিযোগের পর নগর পুলিশের গোয়েন্দারা হালিমের বিরুদ্ধে মামলা সাজাতে শুরু করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে, কর্মকর্তারা ৫০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সাক্ষাৎকার নেন এবং ১০টি মোবাইল ফোন ডিভাইস পরীক্ষা করেন।

তবে জিজ্ঞাসাবাদে হালিম খান বারবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ভুক্তভোগীরা ব্যক্তিগত প্রতিশোধের জন্য গল্প তৈরি করেছে।

পরে তদন্তের পর হালিম খানের বিরুদ্ধে ৯টি ধর্ষণের অভিযোগ, ৪টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ১২ বছরের কম বয়সি শিশুর উপর দুটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ১২ বছরের কম বয়সি শিশুকে পাঁচটি ধর্ষণের অভিযোগ এবং একটি ‘অনুপ্রবেশমূলক আক্রমণের’ অভিযোগ প্রমাণ হয়।