সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রয়েছে সরকারি চাকরি আইন। তবে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস’ নামে আরো একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
আইনের খসড়া তৈরি করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ১৬ সদস্যের কমিটিও করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
নতুন আইনটি শুধু বিসিএস কর্মকর্তা, না সব সরকারি কর্মচারীর জন্য করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছিল, ‘সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন এই আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার চাইলে শুধু ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য এই আইন করতে পারে অথবা বেসামরিক সব কর্মকর্তাকে এর আওতায় আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইনে সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন হতে পারে।
নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের চাহিদার সুষম সমন্বয় ঘটিয়ে একটি জনবান্ধব ও ভবিষ্যৎমুখী সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সরকারের নীতি-নির্ধারণী কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, নতুন সরকার প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই বাজেট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম উদ্যোগ। তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ুজনিত সংকটের মুখে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, যুবদের ও জলবাযু পরিবর্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সুরক্ষাকবচ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সময় এখনই : নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে তারা এসব কথা বলেন।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে সংলাপে গত ৫ বছরের (২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬) জাতীয় বাজেটের বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে দেখানো হয়, সামগ্রিক বাজেটের আকার ক্রমান্বয়ে বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জেন্ডার বাজেটের মতো টেকসই উন্নয়নের নিশ্চিতকরণে বরাদ্দের ক্ষেত্রে এক ধরনের স্থবিরতা বা সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। পাশপাশি বাজেটের গুণগত বাস্তবায়ন ও ফলাফল অর্জন ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের নীতিনির্ধারণে এখন ‘মানুষকেন্দ্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন) ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি বলেন, আগের তুলনায় এখন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ অনেক বাড়ছে। জলবায়ু ও উন্নয়ন অঙ্গীকারগুলোর ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহার থেকে বাস্তব রূপান্তর এখন স্পষ্ট দৃশ্যমান। জলবায়ু অর্থায়ন, ঋণ, আন্তর্জাতিক তহবিল এবং আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়কে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সবুজ উদ্যোগের জন্য প্রণোদনার বিষয়ে সম্মত হয়ে পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম মোছাদ্দেক জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৈষম্য কমানো। ইতোমধ্যে ১৫টি খাতে ক্লাইমেট জাস্টিস যুক্ত করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বাড়াতে শতভাগ ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, শুধু জিডিপি বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। তরুণরা যদি শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে না পারে, তবে উন্নয়নের সুফল মিলবে না। জেন্ডার বাজেট কমে যাওয়ার প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন জানান, যুব উন্নয়ন বাজেট এখন ‘বছরব্যাপী কর্মসূচি’ হিসেবে কাজ করছে। তরুণদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এসএমই ঋণ ও আউটসোর্সিংয়ে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বাজেট প্রক্রিয়াকে আরো অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত এক দশকে প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয় জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত হলেও গড় বাস্তবায়ন সক্ষমতা মাত্র ৭ শতাংশ। দুর্বল জবাবদিহির কারণে জলবায়ু ঝুঁকি কমছে না উল্লেখ করে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
সংলাপে বাজেট পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা যায়, গত ৫ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২.০৮ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে কমে ১.৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ৪৪টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করলেও নারীদের মাঠপর্যায়ের সুরক্ষা ও সামাজিক সেবার পরিধি আরো বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে জেন্ডার বাজেটের আকার জিডিপির ৫.৭ শতাংশ থেকে কিছুটা সংকুচিত হয়ে ৪.২ শতাংশে অবস্থান করছে। নারীদের প্রত্যক্ষ জনসেবা এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপখাতগুলোতে গত এক বছরে বরাদ্দ কিছুটা কমে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তার মতো উদ্যোগগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকিতে থাকলেও এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মাত্র ২.৮৯ শতাংশ। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও এনডিসি বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে এক বিশাল ঘাটতি রয়েছে।
