ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজের ২২ দিন পর অবশেষে পুলিশ সদস্য রাকিবুল হাসান সরকারকে (৩২) উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক পুলিশ সদস্য রাকিবুলকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রায় এক মাস নিখোঁজ থাকার পর পুলিশ সদস্য রাকিবুলকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে এতদিন সে কোথায় ছিল সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে থানার ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান সরকার। পরদিন গুলিস্তানের একটি ব্যাংকের বুথ থেকে তার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা তোলা হয়। ওইদিন কিছু সময়ের জন্য রাকিবুলের মুঠোফোনটি সক্রিয় হয়েছিল। তবে ব্যারাক থেকে বের হওয়ার পর থেকেই এই পুলিশ সদস্যের আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে থানা ভবনের ব্যারাক থেকে বের হন এসআই রাকিবুল হাসান। এর কিছুক্ষণ পর চা খেয়ে আবারও ব্যারাকে ঢোকেন তিনি। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ‘নাইট ডিউটি’র কথা বলে আবারও ব্যারাক থেকে বের হন। তবে এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি দেশের সব থানায় বেতারবার্তাও পাঠানো হয়।
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজের পরদিন (২৯ এপ্রিল) গুলিস্তানে একটি ব্যাংকের বুথ থেকে ৫ হাজার টাকা তোলেন এসআই রাকিবুল হাসান। ওইদিন রাজধানীর চকবাজার এলাকায় তার মুঠোফোনটি সক্রিয় পাওয়া যায়। ওই সময় তার মুঠোফোনে টাকা তোলা সংক্রান্ত ব্যাংকের মেসেজটি আসে। এতে বোঝা যায় টাকা তোলার সময় তার ফোন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে যখন এসআই রাকিবুল হাসান ফোন চালু করেছেন, তখনই ব্যাংকের লেনদেন সংক্রান্ত মেসেজটি ঢুকেছে।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা যায়, এসআই রাকিবুল হাসানের ব্যাংক হিসাবে তার বেতনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা জমা ছিল। সেখান থেকে ওইদিন মাত্র ৫ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছিল, যদি অন্য কেউ তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতো তাহলে পুরোটাই তুলে নিতো। এ কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছিলেন, হয়তো পুলিশের কাজের ধরন কিংবা চাপের কারণে হতাশ হয়ে এসআই রাকিবুল আত্মগোপনে থাকতে পারেন।
