শেরপুর সদর উপজেলায় দুই বন্ধুর পারিবারিক সম্পর্ক ও প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে আল আমীন (ছদ্মনাম) নামের এক যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং পরে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনাটি ঘটে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকায়। ১৩ মে আল আমীনকে তার বন্ধু শুভ সহযোগী সম্রাটের সহায়তায় কৌশলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। মরদেহ বাগলগড় গ্রামের সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরবর্তীতে ১৮ মে ঘাসক্ষেতে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার হলে নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম ট্রাউজার ও জুতা দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর তিনি ১৯ মে শেরপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। পরে প্রধান আসামি শুভ এবং তার সহযোগী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত আল আমীনের সঙ্গে তার বন্ধু শুভর পারিবারিক সম্পর্ক ও প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব চলছিল। শুভ আল আমীনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই মধ্যে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল আমীনের কাছে এক লাখ টাকা চাইলে আল আমীন পাল্টা শর্ত হিসেবে শুভর বোনের সঙ্গে প্রেম করতে চায়। এতে অপমানবোধ করে এবং ক্ষুব্ধ হয় শুভ। ক্ষোভ থেকে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ মে দুপুরে আল আমীনকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। সেখানে সম্রাটের সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।
শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, ১৯ মে বিকেলে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে প্রধান আসামি শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সম্রাটকে আটক করা হয়। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আদালতে হাজির করা হলে প্রধান আসামি শুভ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক শান্তকেও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
