শেরপুরে বোনের সঙ্গে প্রেম ও অপমানের জেরে আলামিন নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছেন তার বন্ধু শুভ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে শুভকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) বিকালে চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসখেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে আলামিন হিসেবে শনাক্ত করেন তার বাবা মো. সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জামালপুর জেলা ইউনিট। তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই জানতে পারে, আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শুভ নামের এক যুবকের। এ সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও চাপা ক্ষোভ চলছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, একপর্যায়ে আলামিন তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কথা শুভকে বলেন। এরমধ্যে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ দেওয়ার জন্য আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। আলামিন পালটা শর্ত হিসেবে শুভর বোনকে কাছে পাওয়ার ইঙ্গিত দেন। এ অপমানবোধ থেকে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে রাজি করান। পরে গত ১৩ মে দুপুরে আলামিনকে মোটরসাইকেলে করে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে আলামিন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকাকালে শুভ পেছন থেকে নাইলনের দড়ি গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। এ সময় সম্রাট তাকে চেপে ধরে রাখেন। পরে শুভর সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর লাশ ঘাসখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।
পিবিআই জানায়, শুভর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সহযোগী সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করা হয়।
আদালতে হাজির করা হলে শুভ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক শান্তও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পৃথক টিম গঠন করে ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান।
