৩ বিশ্বকাপে সফল ভবিষ্যদ্বাণী করার চোখে এবার চ্যাম্পিয়ন হবে যে দল

বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে ফের আলোচনায় জার্মান অর্থনীতিবিদ ও ফাইন্যান্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ইওয়াখিম ক্লেমেন্ট। অতীতে ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পূর্বাভাস মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়েও নতুন পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি; তবে ভিন্ন কিছু কারণে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে চমক সৃষ্টি করেছে এটি।

ক্লেমেন্টের তৈরি মডেল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডস। তার মডেলে মূলত দেশের অর্থনীতি, জনসংখ্যা, ফিফা র‍্যাঙ্কিং এবং অন্যান্য কাঠামোগত ফ্যাক্টর বিবেচনা করা হয়। তার বিশ্লেষণে গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটে শক্ত প্রতিপক্ষদের হারিয়ে ডাচদের ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস। যদিও ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ডাচরা। এ ছাড়া কাতারে গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। আর ২০১৮ সালে তো বিশ্বকাপেই খেলা হয়ে উঠেনি তাদের। এমন একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করলে অবাকই হতে হয়।

স্বয়ং ক্লেমেন্টও অবাক হচ্ছেন। যদিও নিজের পূর্বাভাস নিয়ে ‘এসবিএস ডাচ’কে ক্লেমেন্ট বলেছেন, ‘আমিও কিছুটা অবাক হয়েছি। কারণ, সিমুলেশন বলছে ২০২৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ফাইনালে যাওয়ার পথ খুব কঠিন।’

এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল বিশ্বকাপে খেলবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক এই মহারণে ১০৪ ম্যাচ হবে। ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলবে ডাচরা। তার মডেল বলছে, গ্রুপ পেরিয়ে নকআউট পর্বে মরক্কো ও স্বাগতিক কানাডাকে হারাতে পারে নেদারল্যান্ডস।

এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ফ্রান্সকে রাখা হয়েছে। যদিও ক্লেমেন্টের মতে, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি ফ্রান্স। এ ছাড়া সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হতে পারে স্পেন এবং ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা পর্তুগালের। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের সম্ভাব্য দল হিসেবে নেদারল্যান্ডসকেই দেখাচ্ছে ক্লেমেন্টের মডেল।

ক্লেমেন্টের ভাষায়, ‘নেদারল্যান্ডস যদি সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে তাদের আত্মবিশ্বাস এমন পর্যায়ে থাকবে যে তারা যেকোনো দলকে হারাতে পারবে।’