বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভারতের সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন শত শত মানুষ। মঙ্গলবারের ছবি
বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হওয়া শত শত মানুষকে সীমান্তের ভারতীয় অংশ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। সেখানে তাদের নথি যাচাই ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সীমান্তে জড়ো হওয়া এসব মানুষকে পুলিশ ও বিএসএফের সমন্বয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এসব ব্যক্তির পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে।
মূলত পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের কঠোর অবস্থানের পর গত দুই দিন ধরে বহু মানুষ উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তাদের দাবি, তারা বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান।
ভারতে মহাসড়কে রহস্যময় সিসিটিভি: সেনাবাহিনীর চলাচলে গোপন নজরদারি, ভিডিও চলে যায় পাকিস্তানে
পরে মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত থেকে এসব ব্যক্তিকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক যাচাই শেষে ১১০ জনকে স্বরূপনগরের তেতুলিয়া এলাকার সরকারি গেস্ট হাউস ‘পথের সাথী’-তে রাখা হয়েছে।
বিএসএফের ছাড়পত্র ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানেই রাখা হবে। গেস্ট হাউসের বাইরে মোতায়েন রয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা।
এছাড়া হাকিমপুর সীমান্তের কাছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে আরও শতাধিক মানুষকে। পাশাপাশি সীমান্তসংলগ্ন দুটি নবনির্মিত বাড়িতে আশ্রয় দেয়া হয়েছে আরও প্রায় ১৭০ জনকে।
তবে বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রেন, বাস ও ভাড়া করা গাড়িতে করে আরও মানুষ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন। প্রশাসনের হিসাবে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত নতুন করে আরও প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্তে আসা প্রত্যেকের নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক মামলা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই শেষে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হলে নিয়ম অনুযায়ী বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
আটককৃত ব্যক্তিদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময় দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস শুরু করেন। কেউ রাজারহাট, কেউ হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় থাকতেন। আবার কেউ কেউ দক্ষিণ ভারতের কেরালাতেও কাজ করতেন।
তাদের দাবি, স্থানীয় দালালদের সহায়তায় তারা ভারতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছিলেন। এ কাজে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের স্থানীয় কিছু লোকজন সহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
