প্রতারণা ও যৌতুকের দাবিতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় অবশেষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সাবেক বিতর্কিত সহকারী মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেছেন আদালত।
আদালতের সমন পাওয়ার পরও আজ মঙ্গলবার (২ জুন) হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস আজ দুপুরে ফেস দ্য পিপল-কে এই আইনি আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর হাতিরঝিল থানার আমলি মামলা নম্বর ৪১৫/২৬-এর প্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ২৭ নম্বর আমলি আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ও পেশায় শিক্ষক রুনা বেগম এবং একমাত্র বিবাদী মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারির ফলে পুলিশ এখন যেকোনো সময় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত ১২ এপ্রিল বিয়ের তথ্য গোপন, ব্ল্যাকমেইল এবং যৌতুকের দাবিতে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা বেগম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কথিত ‘আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরো’ (IMB) থেকে রুনা বেগমের বায়োডাটা সংগ্রহ করে নিজেকে অবিবাহিত এবং দেশের শীর্ষ আলেম দাবি করে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করেন রাকিবুল। বিয়ের পর জানা যায় তিনি আগে থেকেই বিবাহিত। এমনকি স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে রুনাকে বিভিন্ন মাদরাসা ও হাসপাতালে অসম্মানজনক পরিবেশে রাত কাটাতে বাধ্য করার পাশাপাশি যৌতুকের দাবিতে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবী এডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আইন সবার জন্য সমান। মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী আলেম পরিচয়ের আড়ালে যে ভয়াবহ জালিয়াতি ও নির্যাতন চালিয়েছেন, আদালত তা আমলে নিয়ে পূর্বেই সমন জারি করেছিলেন। কিন্তু আজ তিনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, যার কারণে বিজ্ঞ আদালত তার বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের সাথে গোপন সম্পৃক্ততার অভিযোগে একান্ত সহকারীর পদ থেকে বহিষ্কার করেছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। এছাড়া সম্প্রতি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দায়ে হেফাজতের ভোলা জেলা শাখা থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়।
ভুক্তভোগী রুনা বেগমের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল ফেস দ্য পিপল। তথ্য সংগ্রহকালে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারি ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
