সিআইডির তদন্তে উঠে এলো হাদি হত্যায় ৫ জনের নাম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহার করা হয় ক্যাসিনো খালেদের অস্ত্র। অস্ত্রের যোগানদাতা চট্টগ্রামের মাজেদুল হেলালকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সিআইডি। হত্যায় নাম এসেছে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লবসহ পাঁচজনের। সিআইডি বলছে, ভারতে গ্রেফতার ফয়সালসহ তিনজনকে ফেরালেই উদঘাটন হবে পুরো রহস্য। এদিকে, মমতার বক্তব্য আমলে না নিয়ে আসামিদের ফেরাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বাংলাদেশে ওসমান হাদী হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি দাবি করেছেন, এ বিষয়ে তিনি সব জানেন। মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। দেশের স্বার্থে তাই তিনি মুখ খুলছেন না।

মমতার এই বক্তব্যের পর আবারও আলোচনায় হাদি হত্যা। ডিবি থেকে সিআইডিতে হস্তান্তরের ৫ মাসে অধিকতর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরা হলো।

রাজধানীর পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পিকে মাস্টারমাইন্ড উল্লেখ করে ১৭ জনের নামে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। বাদির নারাজিতে ১৫ জানুয়ারি থেকে মামলাটি অধিকতর তদন্তে নামে সিআইডি।

এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যায় জড়িত সন্দেহে ছাত্রলীগ কর্মী মো. রুবেলকে গ্রেফতার করে সংস্থাটি। জিজ্ঞসাবাদে সামনে আসে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে হত্যার মিশনের জন্য ঠিক করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব ও আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জমান রুবেল। সামনে আসে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক ছাত্রলীগ নেতা মাইনুদ্দিন শুভর নামও।

নরসিংদী থেকে উদ্ধার অস্ত্রের ফরেনসিক করা হয় সিআইডির ল্যাবে। প্রমাণ মেলে হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে সেটিই। এবার অস্ত্রের গায়ের নম্বরের সূত্র ধরে ঢাকায় দুটি ও চট্টগ্রামে ১টি দোকানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। মাজেদ আদালত জবানবন্দি দেন অস্ত্রটি দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়। এই মামলায় অস্ত্র সরবরাহকারীকেও গ্রেফতার করা হয়। তারও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিকেও শনাক্ত করতে সক্ষম হই।

তিনি জানান, ডিবির তদন্তে ১৭ জনের পাশাপাশি আরও ৬ জনের নাম পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে।

জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের দিক থেকে তদন্তের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্তদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে সকল প্রকার যোগাযোগ করা হয়েছে। যদি আমরা তাকে কাছে পাই জিজ্ঞাসাবাদ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিতে সক্ষম হবো।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতে গ্রেফতার হাদির হত্যাকারীদের ফেরাতে কাজ চলছে। আমলে নেয়া হচ্ছে না বাইরের কারোর বক্তব্য।

তিনি বলেন, ‘পাশের দেশের নির্বাচনে যিনি হেরে গেছেন, তিনি তাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছেন। সেটি নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি। এটি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’

কূটনৈতিক চ্যালেনে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় সরকার এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।