ভারতের মথুরায় স্বনামধন্য ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) এক সাবেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিজেকে আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে তরুণীদের যৌন নির্যাতন এবং সেই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অভিযুক্তের নাম অভিষেক মিশ্র (২৯)। তিনি ওডিশার বাসিন্দা। ২০২১ সালে আইআইটি রুরকি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ‘আদিকর্তা নারায়ণ দাস’ নামে পরিচিতি গড়ে তোলা এই যুবককে ছত্তিশগড়ের এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রায় চার বছর ধরে মথুরার রাধাকুঞ্জ এলাকায় বসবাস করছিলেন মিশ্র। সেখানে নিজেকে একজন কথাবাচক বা ধর্মীয় কাহিনি-বর্ণনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন। ‘রাধা কৃপা অমৃতা’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলও খোলেন তিনি। সেখানে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় ধর্মীয় বক্তব্য প্রচার করতেন। এ ছাড়া নিজের ছদ্মনামে লিংকডইনেও একটি পেশাদার প্রোফাইল চালাতেন।
পুলিশের দাবি, এসব প্ল্যাটফর্ম শুধু অনুসারী বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করেননি, বরং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত তরুণীদের বিশেষভাবে টার্গেট করতেন তিনি। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, মিশ্র ভিডিও কলের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। ধীরে ধীরে তাদের প্রভাবিত করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে ও তার সঙ্গে বসবাস করতে রাজি করাতেন। এক পর্যায়ে তার মথুরার বাসভবনে প্রায় ২৪ জন তরুণ-তরুণী একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, প্রসাদ দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের মাদকমিশ্রিত দুধ পান করাতেন তিনি। পরে তাদের যৌন নির্যাতন করে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতেন। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে এই অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, শুরুতে মিশ্রের মা তার সঙ্গে ওই বাসায় থাকলেও ছেলের আচরণে বিরক্ত হয়ে পরে সেখান থেকে চলে যান। প্রথমে ভাড়া বাসায় থাকলেও পরবর্তীতে এলাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
