নাটোরের সিংড়া উপজেলায় নিজ মাকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ কয়েকদিন টয়লেটে লুকিয়ে রেখে পচে গেলে বস্তাবন্দী করে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিংড়া থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
এর আগে গত ৯ জুন উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া এলাকা থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মারিয়া বেগমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ জুন নিহত মারিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা বেগম সিংড়া থানায় মায়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৯ জুন মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের ছেলে জনাব আলী (৫৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জনাব আলী তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে জনাব আলীর সাথে গত ২৩ মে কথাকাটাকাটি হয়| এরপর ২৫ মে রাত আনুমানিক ৯টায় মায়ের শোবার ঘরে গিয়ে গলা টিপে ধরেন। বৃদ্ধা অনেক দুর্বল হওয়ায় চিৎকার কিংবা জোড়াজুড়ি করতে পারেনি। কিছু সময় পর মৃত্যু নিশ্চিত করে বাড়ির পেছনে টয়লেটের মধ্যে লাশ ফেলে দেয়। প্রায় ১০ দিন পর প্রচন্ড দুর্গন্ধ বের হলে তার ছেলে আলামীনের সহযোগিতায় গত ৪ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মরদেহ বস্তাবন্দী করে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্তে নেমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে।
পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
