ওমান উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিনদিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার মার্কিন দূতকে তলব করেছে ভারত। শুক্রবার (১২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে জাহাজে হামলার প্রতিবাদ জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই জাহাজে অন্তত ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। যদিও এই হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হামলার পর মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে ডেকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে একই স্থানে অপর এক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পরও মার্কিন দূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায় তারা।
অবস্থা এতটা বেগতিক যে, মার্কিন নৌবাহিনী ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে প্রথমবারের মতো অভিযোগ করেছে ভারত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চার দিনের মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় ক্রু পরিচালিত বিদেশি পতাকাবাহী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
গত বুধবার (১০ জুন) এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মার্কিন দূতকে তলবের পর ভারতের কড়া কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নাবিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। এমটি সেত্তেবেলো জাহাজে হামলার পর আমরা জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘আমরা মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছি এবং চলমান হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা কঠোর প্রতিবাদও জানিয়েছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব সামরিক পদক্ষেপ ‘অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে’। তার মতে, ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা উচিত।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ওপর ইরান বিধিনিষেধ আরোপ করায় বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা জাহাজগুলোতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১১ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
