গোপন গুনাহের ভয়াবহ পরিণতি

মহল্লার এক যুবক মারা গেল। খবর শুনে সবাই তাকে দেখতে ছুটে এলো। এলাকার সম্মানিত মুরব্বি শায়েখ আব্দুল্লাহও গেলেন। ছেলেটিকে সবাই ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের বলেই চিনত।

বাড়িতে মানুষের ভিড়। আত্মীয়স্বজন কান্নাকাটি করছে। কিন্তু ছেলেটির মায়ের কান্না ছিল অন্যরকম—বুকফাটা আর্তনাদ, যেন মৃত্যুর শোকের চেয়েও গভীর কোনো যন্ত্রণা তাকে কাঁদাচ্ছে।

শায়েখ আব্দুল্লাহ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন—

❝ বোন, পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না। আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আপনার ছেলে মারা গেছে—এটাই আল্লাহর ফয়সালা। ধৈর্য ধরুন, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। ❞

মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন—

❝ শায়েখ, আমার ছেলে মারা গেছে—এটা আমি মেনে নিয়েছি। আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমি কাঁদছি… সে যেভাবে মারা গেল, সেটা মনে করে। ❞

কিছুদিন পর সেই মা পুরো ঘটনা খুলে বললেন—

প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে তার ছেলে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিত। সবাই ভাবত, হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছে। কিন্তু সেদিন অনেক সময় পার হয়ে গেলেও কোনো সাড়া পাওয়া গেল না।

বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙতে হলো।

ভেতরে ঢুকে তারা যা দেখল, তা কল্পনারও বাইরে…

ছেলেটি বিছানায় নিথর পড়ে আছে, আর সামনে ল্যাপটপে চলছিল অশ্লীল ভিডিও।

মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন—

❝ আমরা কখনো ভাবিনি সে এসব দেখত। প্রতিদিন যে সময়টাকে আমরা বিশ্রামের সময় মনে করতাম, সেই সময়েই সে গোপনে এই গুনাহে ডুবে থাকত। আর সেই অবস্থাতেই আল্লাহ তার মৃত্যু দিলেন… এটা ভাবলেই আমার বুক ফেটে যায়। ❞

প্রিয় ভাই ও বোন,

গোপন গুনাহ প্রথমে ভয় সৃষ্টি করে, অপরাধবোধ জাগায়। কিন্তু যখন মানুষ বারবার একই গুনাহ করতে থাকে, তখন তা তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্তর কঠিন হয়ে যায়। সে ভাবতে শুরু করে—

❝ কেউ তো দেখছে না। ❞

কিন্তু…

মানুষ না দেখলেও আল্লাহ সব দেখেন।

আর কখনো কখনো আল্লাহ এমনভাবে পর্দা সরিয়ে দেন, যা কল্পনারও বাইরে।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—গুনাহ করতে করতেই মৃত্যু চলে আসা।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

“প্রত্যেক মানুষকে সেই অবস্থাতেই উঠানো হবে, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
(সহীহ মুসলিম: ২৮৭৮)

তাই গোপন গুনাহকে ছোট মনে করবেন না।

মানুষকে লুকানো যায়,
কিন্তু আল্লাহকে নয়।

আজই তাওবা করুন।
আজই ফিরে আসুন আল্লাহর দিকে।

[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]

পোস্টটি পড়া শেষ হলে সওয়াবের নিয়তে শেয়ার করুন, যাতে অন্যরাও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

সুত্র: ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া