ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানির নাটকীয় বিদায়ে মাঠের উত্তাপের পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের পরিসংখ্যানের টেবিলেও বড় প্রভাব পড়েছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির এই বিদায়ের ফলে ফুটবলের সবচেয়ে সফলতম দল হিসেবে ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটটি আরও অন্তত চার বছরের জন্য নিরাপদ হয়ে গেল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের একমাত্র দেশ হিসেবে পাঁচবার ট্রফি জেতার অনন্য রেকর্ডটি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের দখলে। এবারের বিশ্বকাপে জার্মানির সামনে সুযোগ ছিল ব্রাজিলের এই রেকর্ডে ভাগ বসানোর। যদি তারা এই আসরে শিরোপা জিততে পারত, তবে তারাও পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করত।
কিন্তু ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যদি আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার এই আসরের রাউন্ড অব ৩২ এই প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ায় সেই সম্ভাবনা আপাতত অঙ্কুরেই বিনাশ হলো। ফলে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের সেই ‘পাঁচ তারকা’ সম্বলিত শ্রেষ্ঠত্ব কেউ স্পর্শ করতে পারছে না।
নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি
এদিকে, জাপানকে পরাজিত করে ব্রাজিল ইতিমধ্যেই শেষ ষোলোয় নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা এখন ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে জার্মানিই ছিল ব্রাজিলের রেকর্ডের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালের পর থেকে শিরোপার প্রতীক্ষায় থাকা সেলেসাওরা এবারের আসরে যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দলের বর্তমান ফর্ম, কোচ কার্লো আনচেলত্তির ক্ষুরধার রণকৌশল এবং নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও জয়ের মানসিকতা তাদের হেক্সা জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আইভরি কোস্ট কিংবা নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে নামার আগে জার্মানির এই বিদায় ব্রাজিলিয়ান শিবিরে নিঃসন্দেহে এক বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন ২০০২ সালের সেই গৌরবময় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ব্রাজিল তাদের জার্সিতে ষষ্ঠ তারা যোগ করবে।
