প্রায় চার বছর আগে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তরুণী। সম্প্রতি তিনি আবিষ্কার করেন, তাদের সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী এখন ন্যায়বিচারের জন্য আইনের শরণাপন্ন হয়েছেন। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে।
ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বর্তমান বয়স ২৮ বছর। তিনি বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে ডেটিং অ্যাপ বাম্বলের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে তারা অ্যাপেই চ্যাট করেন। পরে একে অপরের ইনস্টাগ্রাম আইডি বিনিময় করেন।
যুবক নিজের ভুল পরিচয় দিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তরুণী তার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলও যাচাই করেছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক মনে হওয়ায় তারা দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।
তরুণী ওই যুবকের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। সেখানে যুবক তাকে একটি পানীয় অফার করেন। এরপর তারা অন্তরঙ্গ সম্পর্কে লিপ্ত হন।
সেই সাক্ষাতের পর থেকেই যুবকের আচরণ বদলে যেতে থাকে। তিনি ধীরে ধীরে তরুণীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ কমিয়ে দেন। একপর্যায়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তরুণীকে ব্লক করে দেন। যুবকের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তরুণী আর তার খোঁজ পাননি।
কিন্তু ঘটনার প্রায় চার বছর পর তরুণীর সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর সত্য। তিনি দেখতে পান, তাদের সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে ঘুরছে। তার অজান্তে এবং সম্মতি ছাড়াই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল।
ভিডিওটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট এবং একটি অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। এটি দেখার পরপরই চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী।
এ ঘটনার পর গত ১৯ জুন ওই তরুণী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত ভিডিও অবৈধভাবে ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে। তিনি অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে। ভিডিওগুলো কীভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং কারা এটি আপলোড করেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ইন্টারনেট থেকে এরই মধ্যে সব ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
