মিসরের দ্বিতীয় গোল বাতিল

বিরতির পর দ্বিতীয় গোল হজম আর্জেন্টিনার
শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একটি গোলের দেখা পেয়েছিলেন মোহামেদ সালাহরা। তবে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়েছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার চেয়ে গোছানো ফুটবল খেলেছে মোহামেদ সালাহর মিসর। প্রথম দশ মিনিটেই গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল দলটি। ওদিকে টুর্নামেন্টের ফেভারিট হলেও প্রথম থেকেই আর্জেন্টিনা চ্ছিল কিছুটা অগোছালো। সেই সুযোগেই প্রথম গোলের দেখা পায় মিসর। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি।

শর্ট কর্নার থেকে দারুণ এক আক্রমণ সাজায় মিসর। বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ান মারওয়ান আত্তিয়া। আর সেখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাতাসে পরাস্ত করে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বুলেট গতির এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম।

এদিকে গোল হজমের পর ম্যাচের ১৯ মিনিটেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। মিসরের হাইসেম হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দিতে একদমই দেরি করেননি।
স্পট কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। শট নিতে এসেছিলেন খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের!

এদিকে গোল হজম এবং পেনাল্টি মিসের পর সমতায় ফিরতে খোলস ছেড়ে বের হয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে গোলের লক্ষ্যে লড়তে থাকে দলটি। আর মিসরের হয়ে গোলপোস্টের সামনে প্রাচীর হয়ে ছিলেন দলটির গোলরক্ষক। ২৮ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন তিনি। মিসরীয় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে আসা একটি চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। তাঁর নেওয়া হেডটি পোস্টের মাঝ বরাবর জালের দিকেই যাচ্ছিল। দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে দারুণ এক সেভ করে এবারও আর্জেন্টিনাকে হতাশ ক শোবের।

এরপর ৩১ মিনিটে দারুণ এক সুযোগও পেয়েছিলেন মেসি। বক্সের বেশ কিছুটা দূর থেকে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিসরীয় গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও তাঁর সেই বজ্রবিদ্যুৎ গতির শটটি এবার সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এরপর ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ফের হতাশ করেন শোবের। মিসরের বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে গোলপোস্টের মাঝ বরাবর নিচু শটও নিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। কিন্তু আজ অতিমানবীয় ফর্মে থাকা মিসরীয় গোলরক্ষক এই শটও রুখে দেন।

পিছিয়ে পড়ার পর একের পর এক আক্রমণ করলেও কখনো বল পোস্টে লেগে আব্র মিসরীয় গোলরক্ষকের দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় আর সমতায় ফেরা হয়নি আর্জেন্টিনার। নীল-সাদা জার্সিধারীরা বিরতিতে যায় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে।

এদিকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিট যেতে না যেতেই আরেকটি গোলের দেখা পেয়েছিল মিসর। আর্জেন্টিনার প্রবল আক্রমণের মুখে প্রতি আক্রমণে দারুণ এক গোল করেছিল দলটি। তবে গোলের শুরুতে বিল্ড-আপে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে গোলটি বাতিল হয়।