যে কারণে ঝুঁকি নেবেন না শেখ হাসিনা!

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তবে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ এবং ‘ঈদের পরে আন্দোলনের’ মতো মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলানিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাইয়ের সব পক্ষ শক্তি এক হয়ে যাবে। ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ ভোগবাদী দলে পরিণত হয়েছে। বিদেশের ভোগবিলাসের জীবন ছেড়ে বেশির ভাগ নেতা-কর্মী দেশেই আসবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তিও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পেছনে নেই।

সব শেষ শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার এবং আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টেলিফোনে তিনি এ সাক্ষাৎকার দেন। সম্প্রতি তিনি এনডিটিভিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারেও দেশে ফেরার কথা বলেন।

এর আগে রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কলরেকর্ড ভাইরাল করার মাধ্যমে বহুবার বলেছেন—তিনি যেকোনো সময় দেশে ফিরবেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী। তিনি বলেন, কোন ডিসেম্বর? বলেন নাই তো এই ডিসেম্বরে আসবেন। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাকি পরের কোনো ডিসেম্বরে। ওই বিএনপি যেমন বলত—ঈদের পরে আন্দোলন করব, কিন্তু ঈদের পরে আর আন্দোলন করত না, ওই রকমই হবে।

তিনি বলেন, রয়টার্স, এনডিটিভিকে দেশে ফিরবেন বলার আগেও বিভিন্ন ভাবে টেলিফোনিক আলাপগুলো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন—আসতেছি। কিন্তু কিছু হয় নাই। এখনকার এই বলাটাকেও ওই একই ভাবে দেখছি, খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে কতটা ঝুঁকি নেবেন এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নুরুল আমিন বলেন, মনে হয় ঝুঁকি নেওয়ার অত সাহস নেই। কারণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, তো অত সাহস মনে হয় হবে না। আর আন্তর্জাতিক লবি এখন আর আওয়ামী লীগের পেছনে নেই।

তিনি বলেন, মনে হয় না উনি এত বড় ঝুঁকি নেবেন। আর দেশে এলে উনি (শেখ হাসিনা) আদালতের সম্মুখে ফাঁসির আসামি। ফাঁসির আসামি হিসেবে ওই ড্রেস পরতে হবে, ওই ট্রিটমেন্টটা পাবেন। ভারতও কিছুদিন পর শেখ হাসিনাকে ‘বোঝা’ মনে করবে বলে মনে করেন রাজনীতির এই শিক্ষক।