১১ দলীয় জোট ছাড়ার ইঙ্গিত যে দলের

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে খেলাফত মজলিস। রংপুরের পর সিলেটেও জোটের সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না খেলাফত মজলিসের কোনো নেতা। সিলেটে সমাবেশের পূর্বপ্রস্তুতি ও খেলাফত মজলিসের নেতাদের উপস্থিত না থাকার নিশ্চয়তা জোট ছাড়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

সূত্র বলছে, সিলেটে আগামী শনিবারের (২৫ জুলাই) সমাবেশে ব্যানারেও থাকছে না খেলাফত মজলিসের কোনো নেতার নাম। একই দিন জোটে থাকা-না থাকা নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শূরা বৈঠক করবেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।

জোটের কর্মসূচির দিন দু্ই দিন আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেট নগরের রেজিস্ট্রি মাঠে আলাদাভাবে সমাবেশ ও গণমিছিলের আয়োজন করে খেলাফত মজলিস।

এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ।

মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, শনিবার ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানেই নির্ধারিত হবে খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় জোটে থাকবে কি না। যেহেতু সিলেটের সমাবেশ ও ঢাকার এই বৈঠক একই দিনে পড়েছে, তাই দলের শীর্ষ নেতারা সমাবেশে না থেকে ঢাকাতেই অবস্থান করবেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিভাগীয় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটছে সিলেটের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে। এখান থেকেই নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে সভামঞ্চ। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সিলেটে লিফলেট বিতরণ, প্রচার মিছিল ও মাইকিং করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোটের সিলেটের সমন্বয়ক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিলেট আলিয়া মাঠের সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কেউ থাকবেন কি না আমরা নিশ্চিত নই। জোট ছাড়ার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তিনি বলেন, সমাবেশের মঞ্চ তৈরিসহ যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষণীয়। আলিয়া মাঠের এই মঞ্চ থেকেই আসছে দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা মিলবে।

জোট ছাড়ার বিষয়ে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য হয়েছে, রাজনৈতিক জোট হয়নি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ কিছু বিষয়ে তাদের সঙ্গে সভা-সমাবেশ কর্মসূচিও হয়েছে। তবে, যেহেতু জোটই হয়নি সেখানে জোটে থাকা না থাকার প্রসঙ্গ আসে না।