সৌদি-ইরান সমর্থিত বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ, নিহত ৮১

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৮১ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় হুতিদের স্থল হামলার পাশাপাশি রকেট ও ড্রোন হামলার পর সংঘর্ষ শুরু হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই হুতিদের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর ২৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। তায়েজ এলাকায় নিহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। অন্যদিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৪২ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রের সঙ্গে যৌন মিলন করে ফেঁসে গেলে স্কুল মেডাম

হুতিরা ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের উপকূলে সরকারি বাহিনীর অবস্থানের ওপর নজরদারি ও হামলার সুবিধা পেতে কয়েকটি উঁচু এলাকা দখলে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অবস্থান থেকে তারা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত মোকা বন্দরনগরী ও আশপাশের এলাকায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, হুতিদের বর্তমান অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হলো মোকা শহরকে বিচ্ছিন্ন করা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়া। প্রণালির ওপর নজর রাখা পাহাড়ি এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর উপকূলের দিকে অভিযান চালাতে পারে হুতিরা।

হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের নির্দেশে সরকার-নিয়ন্ত্রিত এডেন থেকে তায়েজ এলাকায় অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইয়েমেনি কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুনঃ  নয়াদিল্লিকে সংলাপের প্রস্তাব দিলেন শেহবাজ

বাব আল-মান্দাব প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সুয়েজ খালের মাধ্যমে এটি ভূমধ্যসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।

ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক হওয়ায় দেশটির তেল পরিবহনের বিকল্প সমুদ্রপথ হিসেবেও এ জলপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ ৪ জনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

বর্তমানে বাব আল-মান্দাবের সরাসরি সংলগ্ন এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও মোকা বন্দরের উত্তরে গুরুত্বপূর্ণ হোদেইদা বন্দর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে জুলাইয়ে হুতি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের একটি বিমান সানায় অবতরণের পর উত্তেজনা বাড়ে এবং পরবর্তী সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এরপর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে দেশটির জাহাজ ও ভূখণ্ডে হামলা শুরু করে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের মধ্যে নতুন এই সংঘাত দেশটিকে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আরও গভীরে টেনে নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুনঃ

Share post:

আরও খবর