যদি কোনো ব্যক্তির ফরজ গোসল সঠিকভাবে আদায় না হয়, তবে তার নামাজ কবুল হবে না | ছবি: সংগৃহীত
ইসলামি শরিয়তে পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের প্রয়োজনে আমাদের ওপর অনেক সময় গোসল ফরজ হয়। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি ও নিয়ম না জানার কারণে অধিকাংশ মানুষের ফরজ গোসলই আদায় হয় না।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার।
তিনি বলেন, ফরজ গোসল বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত হলো নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। অনেক সময় আমরা ঝরনা (শাওয়ার) ছেড়ে গোসল করি কিংবা সরাসরি পুকুরে লাফ দিয়ে গোসল করি, কিন্তু নাকের ভেতরে পানি ঠিকমতো পৌঁছাল কি না সেদিকে খেয়াল করি না। এই অবহেলার কারণে গোসল অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
একটি প্রচলিত ভুল পদ্ধতি
মুফতি আবরার বলেন, আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ভুল হলো, অনেকে মনে করেন আঙুল ভিজিয়ে নাকের নরম জায়গায় মাসাহ করলেই গোসল হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এভাবে কেবল আঙুল দিয়ে মাসাহ করলে ফরজ গোসল আদায় হবে না।
সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি
রেজাউল করীম আবরার বলেন, শরিয়তের ভাষ্যমতে নাক ধৌত করার সঠিক পদ্ধতি হলো—
হাতে পানি নিয়ে শ্বাস টেনে নাকের ভেতর পানি নিতে হবে।
এভাবে মোট তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে।
ডান হাত দিয়ে পানি দিয়ে বাম হাত দিয়ে নাকের ভেতরটা এমনভাবে পরিষ্কার করতে হবে যেন কোনো অংশই শুকনো না থাকে।
অশুদ্ধ গোসলের পরিণাম
যদি কোনো ব্যক্তির ফরজ গোসল সঠিকভাবে আদায় না হয়, তবে তার নামাজ কবুল হবে না। অপবিত্র অবস্থায় (জুনুবি) নামাজ পড়া অত্যন্ত বড় গোনাহের কাজ। তাই ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মগুলো জেনে নেওয়া এবং সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে তা আদায় করা।

