মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমেডি-ক্যাপার সিনেমা ‘দ্য স্টিং’ এবং জ্যানাডু’র মতো সিনেমায় অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। গত ২২ জুলাই নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে ৮৫ বছর বয়স হয়েছিল অভিনেতার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দ্য হলিউড রিপোর্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
স্টার ট্র্যাক ভক্তরা এ অভিনেতাকে ১৯৯০-এর দশকে ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’, ‘ভয়েজার’-এ কাজের জন্য নানাভাবে চেনেন দর্শকরা। এছাড়া ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনচিত্রে ভয়েজ-ওভার আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
এ তারকা অস্কার বিজয়ী সেরা সিনেমা জর্জেস রয় হিলের ‘দ্য স্টিং’ (১৯৭৩)-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করে গল্পের গতি বাড়াতে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। গল্পে অপরাধী ডয়েল লনেগানের একজন জুয়া বা বাজি পরিচালনাকারী কর্মী ছিলেন জেমস স্লোয়েন। এতে তিনি জনি হুকার ও লুথার কোলম্যানের ফাঁদে পা দেন। অলিভিয়া নিউটন-জনের মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’ (১৯৮০)-তে অভিনয় করেন।
১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা জেমস ছিলেন একজন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউ ইয়র্কের অলবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর নিউ ইয়র্কের দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তিনি তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও চাকরি করেছেন।
এরপর নিউ ইয়র্ক ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউ ইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয় এবং ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিতের ‘ইন্ডিয়ান’র মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক করেন। এর বাইরে আর্ভ বাউয়ারের ‘এ ড্রিম আউট অট টাইম’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন এবং ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক করেন।
১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসেন জেমস স্লোয়েন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্র পাওয়ার আগে ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’ (১৯৭১) এবং ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকীয়’র পর্বগুলোয় অভিনয় করেন।
এছাড়া ‘নেক্সট জেনারেশন’-এ একজন রোমুলান অ্যাডমিরাল এবং পরবর্তীতে ক্লিঙ্গন ওয়ার্কের (মাইকেল ডর্ন) ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।
জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান এবং ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল ও মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন।

