নির্বাচন কমিশন নিয়ে স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্যের তথ্য সামনে আসার পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও আরএসএসকে আক্রমণ করেছে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তবে বিজেপির দাবি, কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিনিময়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করছে বিরোধীরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে এই ইস্যুতে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। ভোটার সংযোজন-বিয়োজন, ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা-সহ একাধিক বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ‘ভোট চুরিকে’ ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সংবিধানের ওপর আঘাত বলে অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী। তার দাবি, নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও আরএসএসের ভূমিকার জবাবদিহি প্রয়োজন।

আরও একধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার দাবি করেন। তার অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে।

মমতার দাবি, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৯২ লাখ নাম বাদ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইভিএম নিয়েও অভিযোগ তোলেন। যেসব রাজ্যে এসআইআর-এর পর নির্বাচন হয়েছে, সেখানে পুরোনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবিও জানান তিনি।

মমতার ভাষায়, বিজেপি ও জ্ঞানেশ কুমারের মধ্যে ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ তৈরি হয়েছে। এসআইআর-কে কটাক্ষ করে তিনি এর নাম দেন ‘স্পেশাল ইনটেন্সিভ রুলিং-পার্টি’ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরুর দাবিও জানান।

মমতা বলেন, ‘যদি এতটুকু নৈতিকতা থাকে, তবে আমাদের নির্বাচন ফিরিয়ে দিন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে মানুষগুলোর নাম বাদ গেছে তাদের তালিকা ফিরিয়ে দিতে হবে এবং যে যে রাজ্যে এসআইআর-এর নাম করে ইভিএম লুট করে, হাইজ্যাক করে ওই রাজ্যগুলোতে জিতেছে, সেখানে পুরনো ভোটার তালিকা এনে নতুন করে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।’

তবে বিরোধীদের এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্রের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতবিনিময় ও ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তার দাবি, কমিশনারদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে বিরোধীরাই আবার কমিশনকে ‘স্বৈরাচারী’ বা সরকারের ‘ইয়েস ম্যান’ বলে অভিযোগ করত।

আপনার মতামত লিখুনঃ

Share post:

আরও খবর