তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের প্রতিনিধিদল। এতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে ইফতেখার চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের ওই বৈঠকের ছবি এবং খবর প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ইফতেখার চৌধুরী কি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন? নাকি টাকার বিনিময়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছে জামায়াত?
এক-এগারো সরকারের সময় নিজের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য সাবেক এই কূটনীতিক বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, জামায়াত কেন এমন এক বিতর্কিত কূটনীতিককে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে?
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর আগ্রহের পাশাপাশি তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দলটি। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের সময় আমাদের পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।’
দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘তিনি জামায়াতের ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স কনসালটেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আমরা তার পরামর্শ নিচ্ছি।’
এক-এগারো সরকারের সময় ইফতেখার আহমেদ নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক-এগারোর ঘটনার নেপথ্যে ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি রেনেসাঁ লক ডেসালিয়ান ভূমিকা পালন করেন বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ সময় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি ভুয়া চিঠি দেওয়া হয়। এই চিঠির অন্যতম কারিগর হিসেবে ড. ইফতেখার চৌধুরীকে অনেকেই অভিযুক্ত করে থাকেন। এক-এগারোর ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি এক-এগারো সরকারের প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদের ছোট বোন নিনা চৌধুরীর স্বামী। তার অন্য ভাইয়েরাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে পরিবারটি সুবিধাবাদী হিসেবে সুপরিচিত।
ইফতেখার আহমেদকে বিএনপি সরকারই জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। আর বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া এক-এগারো সরকারের অন্যতম কুশীলবে পরিণত হন তিনি। তার বড় ভাই ফারুক আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
ইফতেখারের আরেক ভাই এনাম আহমেদ চৌধুরী সচিব হিসেবে সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় খালেদা জিয়া সরকারের প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর গণভবনে শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।
সব মিলিয়ে বিতর্কিত এই পরিবারের সদস্য ইফতেখার আহমেদকে জামায়াতের পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
